কার্তিক সাহা, বারাসাত: দেগঙ্গায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা নির্বিঘ্নে কাটলেও জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের অফিসে ঢোকার মুখেই বাধা পেলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী।গেট আটকে পুলিশ প্রথমে বাধা দেয় তাঁকে। পুলিশ ভিতরে ঢুকতে দিতে নারাজ। কিন্তু অধীর বাবুর নেতৃত্বে কংগ্রেস কর্মীরা দেখা করবেন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে।

এই সময়েই কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে বারাসত থানার পুলিশ।কথা কাটাকাটি হয় দুই পক্ষের।পুলিশের আচরণে ক্ষুব্ধ অধির রঞ্জন এবং তার অনুগামীরা এরপর গেট ধরে বসে পড়েন রাস্তায়।পরে বারাসত থানার আইসি জয় প্রকাশ পাণ্ডের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পাঁচ সদস্যের কংগ্রেস প্রতিনিধি দল এরপর দেখা করেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে। এদিন তৃণমূলের গো ব্যাক অধীর এই স্লোগানও শুনতে হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতিকে।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে বেড়িয়ে এসে অধির বলেন পুলিশ এবং তৃণমূলের এই আচরণ দুর্ভাগ্যজনক। আমরা তো কোনও আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করতে আসিনি। জেলার বিশেষ করে দেগঙ্গার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে এসেছি।আমাদের মনে হয়েছে ডেঙ্গু নিয়ে যতটা মনোযোগী হওয়ার কথা ছিল,এই সরকার ততটা হয়নি।ডেঙ্গুকে আড়াল করতে চাইছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তর।ডেঙ্গু মশা তো মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে আসেন নি।তাহলে আড়াল করার কি কারণ থাকতে পারে? এই প্রশ্ন আমার।তিনি বলেন জেলার ডেঙ্গু এবং জ্বর নিয়ে কোন তথ্যই সঠিক দিতে পারেন নি জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।

বৃহস্পতিবার দেগঙ্গায় গিয়েছিলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।দেগঙ্গার মাটিতে দাড়িয়ে মুকুল রায়ের যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে অধির বলেন মুকুল রায় চলে যাওয়া মানেই তৃণমূলের ভাঙ্গনের শুরু।মমতা ব্যানার্জির রক্ত চক্ষুকে উপেক্ষা করে এই প্রথম কেউ দল ছাড়ল।তৃণমূলের অন্যান্য নেতা মন্ত্রীরাও বুঝতে পেরেছেন দল ছেড়েও বাঁচা যায়। মুকুলের বেড়িয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিজেপি তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে।এদিন তিনি আরও বলেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আদিত্য নাথ যোগী আমার পূর্ব পরিচিত।ব্যক্তিগত কাজে লখনউ গিয়েছিলাম। তাই যোগীর সঙ্গে দেখা করেছি।বিজেপির একজন নেতার সঙ্গে দেখা করলেই অধির রঞ্জন চৌধুরী বিজেপি হয়ে যায় না।আমি কংগ্রেসে আছি এবং কংগ্রেসেই থাকব।

এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রথমে যান দেগঙ্গার বিশ্বনাথপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। অধীরের দেগঙ্গা সফর নিয়ে জেলা পুলিশ বেশ সক্রিয় ছিল।পুলিশ এখানেও কংগ্রেসের দলবলকে এক সঙ্গে ঢুকতে বাধা দেন। পরে অবশ্য বাদুড়িয়ার বিধায়ক সহ কয়েকজনকে নিয়ে অধির স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে দেখেন। রোগিদের সঙ্গে কথা বলেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একটি জেনারেল ওয়ার্ডে মহিলা পুরুষ রোগী এক সঙ্গে থাকা নিয়েও এদিন তিনি রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বেহাল পরিকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন কোন সভ্য দেশে এই বিষয় দেখা যায় না।কিভাবে হাসপাতালের ওয়ার্ডে পুরুষ মহিলাদের এক সঙ্গে রেখে চিকিৎসা হয়।এই বিষয় নিয়ে তিনি এদিন ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধিকারিকের সঙ্গেও কথা বলেন।জেনারেল ওয়ার্ডে মহিলা পুরুষ এক সঙ্গে রেখে চিকিৎসা করার প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সুরজ সিনহা থেকে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রাঘবেশ মজুমদার।

দেগঙ্গার ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে পরিকাঠামোগত ত্রুটির জন্যই এই পরিস্থিতিতে তাদের এক সঙ্গে রাখা হয়েছে। দুই একদিনের মধ্যেই মাঝখান দিয়ে একটা পরদা টাঙ্গানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও স্বাস্থ্য কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে।যদিও এই নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের কটাক্ষ এই পরদাও এতদিনে দেওয়া যায় নি। এদিন অধীর চৌধুরী পরদা ফাঁস করে দেওয়ার পর জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের টনক নড়েছে একটা পরদা লাগানো জরুরি। এদিন দেগঙ্গার ডেঙ্গু নিয়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্বলতা তুলে ধরতেই বারাসতে পৌঁছান মাত্রই অধির চৌধুরীকে তৃণমূলের গো ব্যাক শুনতে হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।