ভাঙড়: ফেল কড়ি মাখো তেল। এই বিশেষ প্রচলিত বাংলা প্রবাদটি বিভিন্ন নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক দলের নেতাদের ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। তবে সেই কড়ি দলের কোষাগার থেকে খরচ করতে দেখা গিয়েছে। সেই নিয়েই বিতর্ক কিছু কম হয়নি।

এবার সেই জায়গায় দেখা গেল নতুন ছবি। সরকারি চেক দিয়ে ভোট চাইছেন পঞ্চায়েত প্রধান। শুধু চাইছেন বললে কিছুটা ভুল হবে। বলা ভালো, সরাসরি হুমকি দিয়ে জানাচ্ছেন, ‘ভোটটা কিন্তু আমাদের প্রার্থীকেই দিতে হবে।’ সোমবার এই নিয়েই তপ্ত ছিল বঙ্গ রাজনীতি।

এদিন দুপুরের দিকে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পরে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে ভাঙড়ের ভোগালী দুই নং গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মোদাস্বর শেখকে সরকারি প্রকল্পের চেক বিলি করতে দেখা গিয়েছে। কৃষকদের সেই চেক বিলি করার পাশাপাশি তাঁকে বলতে শোনা গিয়েছে, “আগামী যে লোকসভা নির্বাচন আসছে, প্রত্যেকের যেন মাথায় থাকে, চেকটা দিচ্ছি আমরা। ভোটটাও আমাদের দিতে হবে।”

এখানেই শেষ হয়ে যায়নি তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধানের হুমকি। কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সুবিধা প্রাপ্ত সকলের ভোটার কার্ডের জেরক্স জমা রেখে দিয়েছেন তিনি। অদূর ভবিষ্যতে আসল কপিটাও জমা রাখবেন বলে বলতে শোনা গিয়েছে ওই ভিডিওতে। তিনি বলেছেন, ‘‘পরিষ্কার বলছি, আজ জেরক্স নিচ্ছি। আগামী দিনে চেক দেওয়ার সময় পরিচয়পত্রের অরিজিনাল কেড়ে নেব।’’

কৃষকের মৃত্যু হলে যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা সরকারি প্রকল্পে রয়েছে, তা-ও দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন মুদাস্বর শেখ। তিনি বলেন, ‘‘মৃত্যুর পর ২ লাখ টাকা করে পাওয়ার কথা। সেই টাকাও আর পাবে না।’’ সেই টাকা পেতে গেলে যাদবপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মিমি চক্রবর্তীকে জড়াফুল চিহ্ন ভোট দিয়ে জেতাতে হবে। অন্যথা হলে মিলবে না সরকারি সুবিধা।

যাদবপুর কেন্দ্রের বিজেপি রার্থী অনুপম হাজরা ওই চেক বিলি এবং পঞ্চায়েত প্রধানের বক্তব্যের ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। এই বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, “কী ভাবে ওই চেক বিলি হচ্ছিল সেটা একটা বড় প্রশ্ন। সরকারি অফিসে দাঁড়িয়ে কোনও প্রধান দলের প্রচার করতেও পারেন না। রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়েছি। কমিশনের কাছে অভিযোগ জানানো হবে।” রাজ্যের অতিরিক্ত নির্বাচনী আধিকারিক সঞ্জয় বসু বলেন, ‘‘আমাদের মিডিয়া ওয়াচের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে এসেছে। জেলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।’’