প্রতীকি ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ : দলের মধ্যেই কোন্দল যার ফলে দলীয় কর্মীকে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠল মালদহের কালিয়াচক থানার তৃণমূল পরিচালিত আলীনগর গ্রামপঞ্চায়েতে। জানা গিয়েছে, যার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে তিনি আবার দলেরই অন্যতম একজন পঞ্চায়েত সদস্য এবং দলীয় সহকর্মীও বটে। গ্রামপঞ্চায়েত সূত্রে খবর বর্তমানে ওই অভিযুক্ত ফেরার ।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে, মালদহ জেলার কালিয়াচক থানার আলীনগর গ্রামপঞ্চায়েতের বাজার এলাকায়। ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকা জুড়ে। জানা গিয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পঞ্চায়েত সদস্য ফরিদুল ইসলাম(৩২) ওরফে ফিটু। জোৎপরম গ্রামের বাসিন্দা তিনি৷ স্থানীয় আলীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য। বর্তমানে তিনি পঞ্চায়েতের পূর্ত কর্মাধক্ষ্য পদে রয়েছেন।

আরও পড়ুন : মমতা যখন রাস্তায় যখন তখনই চাকরির দাবিতে নবান্ন অভিযান শুরু বাম ছাত্রযুব

অভিযুক্ত মাইদুর শেখও একই গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলের সদস্য পদে রয়েছেন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বুধবার রাতে পঞ্চায়েতের অফিস সংলগ্ন বাজার এলাকায় পঞ্চায়েতের কাজ নিয়ে ওই সদস্যদের মধ্যে বিবাদ শুরু হয় । জানা গিয়েছে, দুজনের মধ্যে তর্ক বিতর্ক চলাকালীন সময়ে তাঁদের বিবাদ হাতাহাতিতে গিয়ে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্ত মাইদুর শেখ তার দলবল নিয়ে ফরিদুলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে৷ তাকে ভোজালি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপ মারে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আক্রান্ত গ্রামপঞ্চায়েত সদস্যের চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় মাইদুর শেখ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তড়িঘড়ি করে আক্রান্ত সদস্যকে পাঠানো হয় সিলামপুর গ্রামীন হাসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বর্তমানে স্থানান্তরিত করা হয়েছে মালদহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে । মাথায়, পেটে ও শরীরের একাধিক জায়গায় রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। বর্তমানে সেখানেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় চলছে তার চিকিৎসা।

গ্রাম পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭টি আসন বিশিষ্ট আলীনগর গ্রামপঞ্চায়েত। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল ১৪টি, বিজেপি ২টি এবং কংগ্রেস পায় মাত্র ১টি আসন। নির্বাচনের ফলাফলের পরে সব সদস্য তৃণমূলে চলে আসায় বিরোধী শূন্য হয়ে পঞ্চায়েত গঠন করে তৃণমূল।

আরও পড়ুন : কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে মদের রেকর্ড বিক্রি, বিলিতিকে টেক্কা দিল দিশি

জানা গিয়েছে, দশ জন সদস্যের সম্মতিতে পঞ্চায়েত প্রধান হন রুমি বিবি। তারপর থেকেই দুটি গোষ্ঠীতে ভাগ হয়ে যায় পঞ্চায়েত সদস্যরা। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে যে দীর্ঘ দিন ধরে পারস্পারিক দ্বন্দ্ব চলছিল তা এদিনের ঘটনায় ফের সকলের সামনে চলে আসে। এদিকে পঞ্চায়েতের কাজ নিয়েই এই গণ্ডগোলের সূত্রপাত বলে মনে করছে পঞ্চায়েত নেতৃত্ব ।

জানা গিয়েছে, পলাতক অভিযুক্ত৷ তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ এবং গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছে জেলা পুলিশ প্রশাসন।