স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা নির্বাচনের প্রথমপর্ব হয়ে গিয়েছে৷ পশ্চিমবঙ্গে এখন ৪০টি আসনে নির্বাচন বাকি৷ এই পরিস্থিতিতে, উত্তরবঙ্গের ডেলো বাংলোয় চিটফান্ড কর্তাদের সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোলাকাতের খবর নতুন করে বাজারে ছড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে রাখতে চাইলেন মুকুল৷ অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীকে জড়িয়ে মুকুলের চিটফান্ড-প্রচারকে পাত্তাই দিতে চাইছে না তৃণমূল কংগ্রেস৷ দলের এক সিনিয়ার নেতার সাফ জবাব, তৃণমূলের এত দূর্দিন আসেনি যে মুকুলের বিরুদ্ধে প্রচারে যেতে হবে৷

এদিকে, ২০১৯ নির্বাচনে তৃণমূল চিটফান্ড কেলেঙ্কারি নিয়ে তাঁর প্রচারের স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে তা মুকুলের কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ মুকুলের বিরুদ্ধে চিটফান্ড প্রচারের পুরোভাগে রয়েছেন স্বয়ং মমতা৷ তৃণমূল নেতাদের চিটফান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজের ভাষণে ‘দিদি’এবং তাঁর পার্টি নেতাদের বিঁধতে পিছপা হননি৷ রাজ্যে মোদীর প্রচার-ভাষণগুলির একটি বড় অংশ তৃণমূলের সঙ্গে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিকে জুড়ে দিয়েছে৷ পালটা বাজিমাৎ করতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এবং মুকুল রায়কে নাম না করে বাক্যবাণে বিঁধেছেন মমতা৷

সেক্ষেত্রে মুকুলের পালটা স্ট্র্যাটেজি, কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলতে হবে৷ তৃণমূল যদি প্রচার করার চেষ্টা করে যে চিটফান্ড কেলেঙ্কারিতে তিনি যুক্ত, তবে তিনি যে একা নন বরং তৃণমূলের শীর্ষ নেতারাও কম যান না তা ভোটবাজারে ভোটারদের বোঝাতে বদ্ধ পরিকর মুকুল৷ বিজেপি সূত্রে খবর, অত্যন্ত সচেতন ভাবেই সাংবাদিক সম্মেলনে ডেলো বাংলোর প্রসঙ্গ টেনে অনেছেন মুকুল৷

প্রসঙ্গত, উত্তরবঙ্গের ডেলো বাংলোতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা হয়েছিল রোজভ্যালি কর্তা গৌতম কুণ্ড। বিস্ফোরক এই অভিযোগফ করেছেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। মুকুলের বলেন, ‘ডেলোতে শুধু সুদীপ্ত সেন নয়, মমতার সঙ্গে দেখা হয়েছিল গৌতম কুণ্ডুরও।’সেইসময় সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন, ‘আপনিও কী ছিলেন?’ মুকুলের সাফ জবাব সুদীপ্তর সময় ছিলাম, গৌতম কুণ্ডুর সময় ছিলাম না। আজ এটা আপনাদের বলে দিলাম।’

অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে বিজেপিতে যোগ দিয়ে নিজেকে কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় নিয়ে গিয়েছে মুকুল৷ কিন্তু কিছুদিন আগেই সিবিআইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন মুকুল৷ প্রায় চার ঘন্টা তাকে জেরা করা হয়৷ সারদা কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত একটি প্রশ্নমালার উত্তর দিতে হয়েছে মুকুলকে৷ সেভেক্ষে মুকুল স্বাভাবিকভাবেই ওই প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়েছেন৷

বছরের শুরুতে বিজেপি জাতীয় পরিষদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহর অনুরোধে মঞ্চে ওঠেন মুকুল৷ তৃণমূলের এক সময়ের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’- মুকুল জানান তিনি বিজেপি এসে পাপের প্রয়শ্চিত্ত করছেন৷ এরপর থেকেই ‘অ্যাটিটুড’ বদলেছেন মুকুল৷ নারদা হোক বা সারদা – তাঁকে নিয়ে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ সরাসরি জবাব দিচ্ছেন৷ তাকে ঘিরে চলা ফিসফাঁসকেই শক্তি করতে চাইছেন৷

অন্যদিকে, তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুকুলের চিটফান্ড প্রচারকে ধর্তব্যের মধ্যেই রাখছে না একদা তাঁর দল৷ তৃণমূল কংগ্রস বিধায়ক এবং সিনিয়ার নেতা তাপস রায় বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই তো মুকুল এইসব বকছে৷ ওর এইসব কথা উত্তর দেওয়ার মানেই হয় না৷ আর জেনে রাখুন, তৃণমূলের এত দূর্দিন আসেনি যে মুকুলের বিরুদ্ধে প্রচারে যেতে হবে৷ ব্যক্তিগতস্তরে কোনও ঝামেলায় পড়েছে হয়তো৷ সেই করণেই নিজেকে বাঁচাতে ওই সব প্রসঙ্গ টানছে৷’’

কী বলছেন মুকুল রায়? তার সাফ কথা, ‘‘সারদা কেলেঙ্কারি থেকে সব বেশি সুবিধা পেয়েছেন যিনি তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷’’