স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: আগামী ১৯ জানুয়ারি দলের ব্রিগেড সমাবেশ উপলক্ষ্যে বাঁকুড়ার রাইপুরে মিছিল করল তৃণমূল। রবিবার ব্লক তৃণমূল নেতা গণেশ মাহাতর নেতৃত্বে মটগোদা হাসপাতাল মোড়ে মিছিল শুরু হয়ে গড় রাইপুর হাইস্কুল মোড়ে মিছিল শেষ হয়। এই প্রায় দশ কিলোমিটার মিছিলের পথে দলীয় কর্মী সমর্থকদের সঙ্গে হাঁটলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মূ, রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুলেখা মুর্ম্মু, তৃণমূল নেতা গণেশ মাহাত।

সদ্য সমাপ্ত পঞ্চায়েত ভোটে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে আশানরুপ ফল করতে পারেনি শাসক দল। পঞ্চায়েত হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি দলের নিচু তলার কর্মীদের মধ্যে বিভাজন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্কের কথা ভেবে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও সেই কাজে খুব বেশী সাফল্য মেলেনি।

রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচনের দিন দলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব আরও প্রকাশ্যে চলে আসে। কিন্তু এদিন ব্লক তৃণমূল তৃণমূলের উদ্যোগে এদিনের মিছিলে জনজোয়ারে আশার আলো দেখছে শাসকদল। আদিবাসী সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশের মানুষ, বিশেষত মহিলাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

সব মিলিয়ে ব্রিগেড সমাবেশ উপলক্ষ্যে এদিনের মিছিলের পর ‘মুখ ঘুরিয়ে নেওয়া’ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ ফের তৃণমূলের পতাকায় ফিরছেন বলেই শাসক দলের নেতৃত্বের আশা।

মিছিলে অংশ নিয়ে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, তৃণমূল নেতা মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু বলেন, ‘জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী ১৯ জানুয়ারি ঐতিহাসিক ব্রিগেড সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। সেই সমাবেশ উপলক্ষ্যে রাইপুর ব্লক তৃণমূলের মহামিছিলে জঙ্গলমহলের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এদিনের জনসমুদ্র আবারও প্রমাণ করল জঙ্গল মহলের মানুষ ‘দিদি’র উন্নয়নের শরিক হয়ে তাঁর পাশে ছিল, বর্তমানে আছে ও ভবিষ্যতেও থাকবে।’

তৃণমূল নেতা গণেশ মাহাত বলেন, ‘দু’বছর আগে তৎকালীন ব্লক সভাপতি অনিল মাহাত খুন হয়ে যাওয়ার পর তৃণমূল থেকে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছিলেন। পঞ্চায়েত ভোটে সেই ঘটনার প্রমাণ মিলেছে। তারপর জঙ্গলমহল থেকে জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও অনিল মাহাতোর স্ত্রীকে রাইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি করার পর সেই ছবির বদল ঘটতে শুরু করেছে। আবারো জঙ্গল মহলের মানুষ তৃণমূলের পতাকায় ফিরছেন।’

২০১৯-এ ‘বিজেপি ফিনিশ’ হবে দাবি করে এই তৃণমূল নেতা বলেন, ভুল বুঝে যারা বিজেপিতে গেছেন সবাই আবারও তৃণমূলে ফিরে আসবেন বলে তিনি আশাবাদী। একই সঙ্গে জঙ্গল মহল থেকে একটা রেকর্ড সংখ্যক মানুষ দলের ব্রিগেড সমাবেশে যোগ দেবে বলে তিনি জানান।

কলকাতার 'গলি বয়'-এর বিশ্ব জয়ের গল্প