স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: আমফানের ত্রান নিয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই প্রথমে শোকজ করা হবে। তারপর দলীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণ হলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দরকারে বহিষ্কার। দলের সভাপতিদের বৃহস্পতিবার সাফ জানিয়ে দিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে প্রশাসনকে ত্রাণ দুর্নীতি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

দলের সুপ্রিমোর সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হল। বৃহস্পতিবার রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটি জেলার সভাপতিকে নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স করে দলের এই পদক্ষেপ পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। বলেছেন, যে যত বড় নেতাই হোক, ত্রাণ নিয়ে দুর্নীতি করলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবেই। আমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতি হলে ছেড়ে কথা বলবে না রাজ্য সরকার। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এদিন তিনি বলেন, “আমফানের ত্রাণ নিয়ে স্বজনপোষণ হলে কড়া পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।”এই মর্মে বিডিও ও জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, আমফানের ত্রাণ নিয়ে অভিযোগ থাকলে বিডিও অফিসে ভাঙচুর করবেন না। প্রশাসনকে জানান, পদক্ষেপ করা হবে।

বলে রাখি, ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের ২০,০০০ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। অভিযোগ, সেই ক্ষতিপূরণ চলে যাচ্ছে শাসকদলের নেতা, পঞ্চায়েত প্রধান, পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁদের ঘনিষ্ঠদের পকেটে। বুধবারের বৈঠকে এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান বিরোধীরা। তাঁরা বলেন, এতে একদিকে সরকারের পয়সাও খরচ হচ্ছে অন্যদিকে বদনামও হচ্ছে।

এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “রাজ‍্যের স্বার্থে সবাই যাতে এক সুরে কথা বলে, সেটা দেখতে হবে। করোনা যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তারজন‍্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোভিড রোগীদের বিষয়ে আরও বেশি করে নজর দেওয়া হবে। ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে কেউ বঞ্চিত হলে আবেদন করুন।

ত্রাণ নিয়ে দলবাজির কোনও জায়গা নেই। আমার কাছে ২,১০০টি অভিযোগ এসেছে। আমি সেগুলো দেখছি। আমি নিজে আমার দলের চার জনকে দল থেকে তাড়িয়েছি।” প্রয়োজন হলে দল আরও লোককে ছেঁটে ফেলতে যে দু’বার ভাববে না এদিন সেই বার্তাই দিলেন সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ