কলকাতা: ষাটোর্ধ্বদের জন্য আগামী নির্বাচনগুলিতে পোস্টাল ব্যালটের পরিকল্পনা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে কমিশনের এই পরিকল্পনায় আপত্তি তুলেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূল। সোমবারই দলের তরফে সুব্রত বক্সি এব্যাপারে তাঁদের আপত্তির কথা জানিয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার সুনীল আরোরাকে। তৃণমূলের অভিযোগ, ‘এই পদ্ধতি পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক।’

গোটা দেশে লাফিয়ে বাড়ছে নোভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে দেশে ভোট করানো মস্ত চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। সংক্রমণ এড়াতে এখন গোটা দেশেই জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোনও উপায়ে করা যাচ্ছে সামাজিক অনুষ্ঠান।

তবে করেনাা আবহে দেশে নির্বাচন করানোটা এখন মস্ত চ্যালেঞ্জ কমিশনের কাছে। এই অবস্থায় ভোট হলে কীভাবে সামাজিক দূরত্ববিধি মানা যাবে তা নিয়ে কমিশনে জোরদার আলোচনা চলছে। বুথে বুথে লম্বা লাইন কীভাবে আটকানো যাবে তা নিয়েও বিস্তর পরিকল্পনা করতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে।

করোনা সংক্রমণের কথা মাথায় রেখেই তাই নির্বাচন সংক্রান্ত একাধিক নিয়মে বদলের ভাবনা কমিশনের। ঠিক হয়েছে ষাটোর্ধ্বদের আর বুথে গিয়ে ভোট দিতে হবে না। তাঁরা পোস্টাল ব্যালট দিয়ে ঘরে থেকেই ভোট দিতে পারবেন। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে কমিশনের এই নতুন নিয়মে প্রবল আপত্তি তৃণমূলের।

সোমবারই তৃণমূলের তরফে সুব্রত বক্সি চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরাকে। চিঠিতে তৃণমূলের দাবি, ‘এই পদ্ধতি পুরোপুরি অগণতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক।’

তৃণমূলের অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশন পাকাপাকি ষাটোর্ধ্বদের পোস্টাল ব্যালটে ভোটের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে। এর ফলে পাকাপাকিভাবে বুথে গিয়ে ভোটদানের অধিকার হারাবেন দেশের ষাটোর্ধ্ব নাগরিকেরা। এই ব্যবস্থা অগণতান্ত্রিক, অসাংবিধানিক। এটা নির্বাচন কমিশনের স্বৈরাচারী মনোভাব।’

সেই কারণেই ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের ক্ষেত্রে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের বিষয়টি নিয়ে কমিশনকে পুনর্বিবেচনার আরজি জানিয়েছে তৃণমূল। চিঠিতে তৃণমূলের আরও দাবি, ‘করোনার সংক্রমণ এড়াতে প্রয়োজনে বুথের সংখ্যা বাড়িয়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ভোট গ্রহণের দিন বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান করুক কমিশন।’

প্রশ্ন অনেক: তৃতীয় পর্ব