স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: বিজেপির তর্পণ কর্মসূচীকে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়৷ তিনি বলেন, “তর্পণ করার মধ্যে দিয়ে ওরা হিন্দু ধর্মকে বিকৃত করেছেন। তর্পণ করা যায় একমাত্র নিজের পূর্বপুরুষের নামে। এভাবে তর্পণ করার কোনও যৌক্তিকতাই নেই। নাড্ডা গোটা বিষয়টি নাটকীয় করার চেষ্টা করছেন।”

মহালয়ার পূণ্যলগ্নে পিতৃপক্ষের অবসান, দেবী পক্ষের সূচনা হলো আজ। বাঙালিদের হিন্দুমধ্যে এদি পিতৃপুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণের রীতি আছে৷ সেই রীতিকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করে ফেলল রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি জেপি নাড্ডা শনিবার বাগবাজার ঘাটে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার বলি হওয়া বিজেপি কর্মীদের জন্য তর্পণ করেন। বাংলায় রাজনৈতিক সংঘর্ষে ৮০ জন দলীয় কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের পরিবারকে সঙ্গে নিয়েই পালিত হল শহিদ তর্পণ কর্মসূচি।

এদিন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তৃণমূলকে কড়া বার্তা দেওয়াই ছিল বিজেপির লক্ষ্য। এদিন বাগবাজার ঘাটে নাড্ডার সঙ্গে ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) শিব প্রকাশ, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়, সহকারী পর্যবেক্ষক অরবিন্দ মেনন, রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ, জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য মুকুল রায়, কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ এবং আরও অনেকে।

এদিন, বিজেপির কার্যনির্বাহী সভাপতি এদিন বলেন, পশ্চিমবঙ্গে জঙ্গলের রাজ্যত্ব চলছে। কোনও আইন কানুন নেই। রক্ষকই ভক্ষক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণতন্ত্রের গলা টিপে শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। নাড্ডাকে পাল্টা দিয়েছেন সৌগত রায়। তিনি বলেন, “জঙ্গলের রাজত্ব চলছে এটা উনি কী করে বলছেন। এখানে বিজেপি নেতারা আসছেন যাচ্ছেন। উনি পশ্চিমবঙ্গে খুব বেশি আসেননি, এবার নতুন এসেছেন। পার্টি কর্মীদের মুখের কথা শুনে বলছেন উনি। একেবারে দায়ীত্বজ্ঞাণহীনের মতো কথা বলছেন উনি। বিজেপি যাই বলুক নাড্ডা এলেও খুব বেশি তফাত হবে না। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল থাকবে। পিতৃপুরুষের নামে যে তর্পণ করা হয় তা এভাবে করে কোনও লাভ হবে না।”

নাড্ডার মন্তব্যের জবাব দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও। বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা জঙ্গলরাজের অভিযোগ তোলেন তিনি। ফিরহাদের প্রশ্ন, “নাড্ডাজিদের দল যে সব রাজ্য শাসন করছে, সেখানে ধর্ষককে গ্রেফতার করা হচ্ছে না, অভিযোগকারিণীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে, এটা জঙ্গলরাজ নয়? তফসিলি জাতির লোকজনকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে, কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, এটা জঙ্গলরাজ নয়?”