স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: অপেক্ষার অবসান৷ দেশে ফিরেছেন উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান৷ পাকিস্তান অভিনন্দনকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার আগে পর্যন্ত প্রতিটা মুহূর্ত কেটেছে চরম উৎকন্ঠায়৷ দেশে ফিরতে তাঁর দেরি হওয়ায় সেই উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে তোলে৷

বৃহস্পতিবার অভিনন্দনের মুক্তির কথা ঘোষণা করেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান৷ পাকিস্তানের এই ঘোষণায় ভারতে তখন খুশির আমেজ৷ রাজনীতিবিদ থেকে সেলেব্রিটি সকলে গা ভাসালেন সেই খুশির জোয়ারে৷ তেমনি তাঁর ভূয়সী প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন বারাকপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী।

উত্তর ২৪ পরগণার বারাকপুরে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘‘ভারতীয় বায়ু সেনার পাইলট অভিনন্দন বর্তমান দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। ওর জন্য দেশ আজ গর্বিত। আমি নিজে পাইলট ছিলাম৷ তাই জানি পাইলটরা কিভাবে কাজ করে?’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘কত দ্রুত ওদের যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ভারতীয় সেনারা গোটা পৃথিবীর মধ্যে খ্যাতিসম্পন্ন। ওরা একদম প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত। দেশের কোন কথাই কাউকে বলবে না। হিন্দিতে একটা প্রবচন আছে, ‘সর কাটা সকতেহে লেকিন সর ঝুঁকা সকতে নেহি৷ ও সেটাই করে দেখিয়েছে। অভিনন্দনকে অনেক অনেক অভিনন্দন। তাঁর ইস্যুতে কেউ রাজনীতি করতে পারে। আমরা সেনা বাহিনী নিয়ে রাজনীতি করব না। ওরা দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত। ওদের আমরা স্যালুট জানাই।’’

২০০৯ সালে বারাকপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমুলের টিকিটে জিতে সাংসদ হয়েছিলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ছয় বারের বাম সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদারকে তিনি কার্যত রেকর্ড গড়েছিলেন। প্ররথম ইউপিএ জমানায় পেয়েছিলেন মন্ত্রিত্ব। রেলমন্ত্রকের দায়িত্বও গিয়েছিল নবাগত দীনেশের কাঁধে। তবে সেই রেল বাজেট নিয়েই বিতর্কের কারণে খোয়াতে হয় মন্ত্রিত্ব। দূরত্ব বাড়ে দলের সঙ্গে। যদিও ২০১৪ সালেও তাঁকেই বারাকপুর থেকে প্রার্থী করেন মমতা। দলের সঙ্গে দীনেশের দূরত্ব এখন অতীত।

শুক্রবার বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে রাত ১১টার সময় দিল্লির পালম এয়ারপোর্টে নামে। সেখান থেকে সরাসরি অভিনন্দনকে নিয়ে চলে যাওয়া হয় বায়ুসেনার হাসপাতালে। রাতেই অভিনন্দনের বেশ কিছু মেডিক্যাল টেস্ট করানো হয়। হাসপাতালে ছিলেন তাঁর বাবা-মা। তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়৷

ইতিমধ্যে শনিবার দিল্লিতে আরআর হাসপাতালে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন৷ পাকিস্তানে ঠিক কী অবস্থার মধ্যে তাঁকে পড়তে হয়েছিল, এমনসব আলোচনায় তাঁদের মধ্যে হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে৷ পাশাপাশি তাঁর প্রতি পাকিস্তানের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে মনে করা হয়৷