তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই জোরদার প্রচারে নেমে পড়ল শাসক শিবির। শুক্রবার বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রে দলের প্রার্থী অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরার সমর্থনে প্রথম নির্বাচনী কর্মী সভা করলেন তৃণমূল যুব সভাপতি, দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাঁকুড়া জেলা ‘অবজার্ভার’ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় সোনামুখীর রামপুর হাই স্কুল ফুটবল মাঠে৷ এদিন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের সাতটি বিধানসভা এলাকার অসংখ্য তৃণমূল কর্মী সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।

কর্মী সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সদ্য দলত্যাগী সৌমিত্র খাঁকে ‘ছোটো গদ্দার’ বলে উল্লেখ করেন৷ তিনি বলেন, ২০১৪ সালে আমাদের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বেশীরভাগ সময়টাই দিল্লিতে কাটাল। তারপর যখন বুঝল এবার আর দলের টিকিট পাবে না তখন ‘বড় গদ্দারের সঙ্গে ছোটো গদ্দার পালিয়ে গিয়েছে’। তৃণমূলে থাকতে হলে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের জন্য কাজ না করলে তৃণমূলে জায়গা নেই দাবি করেন তিনি৷ ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিং এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, বৃহস্পতিবার অর্জুন সিং বিজেপিতে গিয়েছে। তাতে তৃণমূলের কিছু যায় আসে না। ‘রাম, শ্যাম, যদু, মধু যেই যাক তৃণমূলের তাতে কিছুই যায় আসে না। কারণ মানুষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে তৃণমূল করে।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারে আমলে নীরব মোদী, ললিত মোদী থেকে বিজয় মালিয়ারা দেশকে ‘সর্বস্বান্ত’ করে দিয়ে চলে গিয়েছে বলতে গিয়ে সারদা চিটফাণ্ড প্রসঙ্গ টেনে আনেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সুদীপ্ত সেনকে কার্গিল সীমান্ত থেকে কলার ধরে টেনে এনে জেলে ঢুকিয়েছি। এখানেই নরেন্দ্র মোদী আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পার্থক্য বলে তিনি মনে করেন।

উপস্থিত কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন, হাতে জোড়া ফুলের ঝাণ্ডা, দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদী হবে ঠাণ্ডা। সাত কেন চোদ্দ দফাতেও ভোট হলে তৃণমূলের কিছু যায় আসে না বলে তিনি মনে করেন। আগামী দু’মাস প্রাণ যায় যাক ভোটের লড়াইয়ে লড়ে যেতে হবে। আমরা চেয়েছিলাম তাড়াতাড়ি ভোট হোক।

রমজান মাসের আগে ভোট শেষের আবেদন রেখেছিলাম। আর তা না করে সাত দফাতে ভোট করা হল। তাতে তৃণমূলের কিছু যায় আসে না৷ বিষ্ণুপুরে শ্যামল সাঁতরা দু’লক্ষ ভোটে ব্যবধানে জিতবেন।

ফাইল ছবি

বিরোধীরা এখনও লোকসভা ভোটের প্রার্থীদের নাম না ঘোষণাকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, নির্বাচন ঘোষণা প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল। এখনও বিরোধীরা প্রার্থী ঘোষণা করতে পারল না। পঞ্চায়েত ভোট হলে ওরা বলত তৃণমূল প্রার্থী দিতে দিচ্ছে না। এখন এদের কারো ৪২ জন প্রার্থী দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিনের সভায় যুব সভাপতি, সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রার্থী শ্যামল সাঁতরা, জেলা সভাপতি অরূপ খাঁ, জেলাপরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু, সহ সভাধিপতি শুভাশিস বটব্যাল ‘মেন্টর’ অরূপ চক্রবর্তী, বিধায়ক জ্যোৎস্না মাণ্ডি প্রাক্তন বিধায়ক দিপালী সাহা প্রমুখ।

সর্বশেষ ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সৌমিত্র খাঁ তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিএমের সুস্মিতা বাউরীকে ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৮৫ ভোটে হারিয়ে সংসদে পাঁচ বছরের জন্য নিজের জায়গা পাকা করে নেন। দীর্ঘদিন পর বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রটি হাত ছাড়া হয় সিপিএম তথা বামেদের।

সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ঘাস ফুল ছেড়ে পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছেন। এবার সৌমিত্র খাঁ এখানে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে এই লোকসভা কেন্দ্রের সোনামুখী ও বড়জোড়ায় হেরে গিয়েছে তৃণমূল।

ফলে এই লোকসভা কেন্দ্রটি ফের নিজেদের দখলে রাখতে খানিক বেগ পেতেই হবে শাসক দলকে। এই অবস্থায় বিষ্ণুপুর থেকে দলের প্রার্থী শ্যামল সাঁতরাকে জিতিয়ে আনাই এখন শাসক শিবিরের কাছে ‘প্রেস্টিজ ফাইট’ বলেই জেলা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।