দেবময় ঘোষ, কলকাতা: তৃণমূলের কয়েক ডজন বিধায়ক নাকি তাঁকে দু’বেলা ফোন করেন। তবে বিরক্ত হন না মুকুল রায়। মুকুল রায়ের টুকরো কাগজের তালিকায় কাদের নাম আছে – তাই নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে বিস্তর জল্পনা। শনিবার মুকুল রায় রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন।

কাগজের তালিকা ক্যামেরার দিকে দেখিয়ে বলেছেন, ১০৭ জন বিধায়ক। বিজেপিতে আসার জন্য বসে রয়েছেন। ঘনিষ্ঠ মহলে মুকুল নাকি এও বলেছেন, ঠিক সময় ‘সিগনাল’ দেব। কিন্তু মুকুলের তালিকায় কারা তা এখন রাজ্য রাজনীতির সব থেকে বড় রহস্য।

মুকুল ঘনিষ্ঠ এক নেতার কোথায়, রোজ আর ফোনগুলো বাজে তৃণমূল বিধায়কদের নম্বর থেকে। ওই নেতা অবশ্য এই কথা স্বীকার করেছেন যে, শুধু তৃণমূলের বিধায়করাই নন, কংগ্রেস-সিপিএম-বাম শরিকরাও কম যাচ্ছেন না। রাজ্য বিধানসভার সিংহভাগ বিধায়ক-ই নাকি এখন ‘বেটার অপশন’ হিসাবে বিজেপি-কেই বেছে নিতে চাইছে। “সেইদিন সব্যসাচী দত্তের সঙ্গে দেখা করে ফিরছিলেন দাদা। গাড়িতেই ফোনটা এলো। তৃণমূলের এই বিধায়ক কলকাতার খুব কাছেই আছেন। তিনি বিজেপিতে আসতে চান। কিন্তু দোটানা রয়েছে।”

ডান থেকে বাম , শ্রমিক, কৃষক থেকে সেলস ম্যান, উত্তর থেকে দক্ষিণ বঙ্গের মানুষের একটাই প্রশ্ন, মুকুলের তালিকায় করা করা আছে? যদিও মুকুল বলছেন, করা আছেন আসতে আসতে সবই জানা যাবে।

মুকুলের ১০৭ এর তালিকার সঙ্গে আবার অনেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজারহাট ফাইলের মিল পাচ্ছেন। অনেক সিপিএম নেতা আড়ালে বলছেন, রাজারহাটে মাচা বেঁধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজারহাটের দুর্নীতি নিয়ে ফাইলের পাহাড় দেখিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে সেই দুর্নীতির অভিযোগগুলি দিনের আলো দেখেনি।

২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা। সিপিএম নেতাদের বক্তব্য, ১০৭ এর তালিকা মমতার রাজারহাট ফাইলের মতোই। ওপর থেকে ঝা চকচকে। ভিতরে গড়ের মাঠ। রাজ্য বিজেপির মুকুলপন্থীদের পাল্টা কটাক্ষ, সৌমিত্র খান, অর্জুন সিং বা মনিরুল ইসলামরা তো তৃণমূলের ছিলেন। বিজেপি যে কার হাত ধরে এলেন? গড়ের মাঠ না ইডেন গার্ডেন তা সময়ই বলবে।