বিজেপি কর্মীকে পাশে বসিয়ে প্রাতরাশ করছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং(হলুদ গেঞ্জি)

সৌমেন শীল, বারাকপুর: রাজ্য জুড়ে ১২ ঘণ্টার বনধ ডেকেছে বিরোধী বিজেপি। যা প্রতিহত করতে আসরে নেমেছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই নিয়ে ঘটেছে নানান হিংসাত্মক ঘটনা। এরই মাঝে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ইছাপুর।

বনধের সমর্থনে রেল অবরোধ করতে আসা এক বিজেপি কর্মীকে নিজের গাড়িতে করে ঘোরালেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং। শুধু তাই নয় ওই বিজেপি কর্মীকে বনধের সকালে প্রাতরাশ করিয়েছেন নিজের খরচেই।

আরও পড়ুন- খোলা দোকানে ভাঙচুরের হুমকি বিজেপি নেতার

খুব স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা রাজ্যের হিংসাত্মক একগুচ্ছ ছবির মাঝে এই নয়া বার্তা দিয়েছে। রাজনৈতিক সৌজন্যে এবং কর্মনাশা বনধ বিরোধিতার ক্ষেত্রেও এক নয়া দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। যার রূপকার নোয়াপড়া কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুনীল সিং। যাদের বিরুদ্ধে বনধ পালন করতে রাস্তায় নেমেছিলেন সেই দলের বিধায়কের সঙ্গে চার ঘণ্টা সময় কাটাতে হয়েছে ওই বিজেপি কর্মীকে।

বিধায়ক সুনীলবাবু বলেছেন, “বিজেপি কর্মীরা রেল অবরোধ করেছে শুনে ইছাপুর স্টেশনের কাছে গিয়েছিলাম। ওখানে গিয়েই এক বিজেপি কর্মীকে দেখে নিজেই তাঁর দিকে এগিয়ে যায়।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ওই বিজেপি কর্মীকে নিয়ে প্রথমে এলাকার অনেকটা জায়গা হাঁটি। পরে আমার গাড়িতে করেই ওই বিজেপি কর্মীকে নিয়ে অনেক জায়গায় ঘুরেছি।”

মাথা নিচু বিজেপি কর্মীর

বিধায়ক হওয়ার সুবাদে নিত্যদিন নোয়াপাড়া বিধানসভা এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখতে হয় সুনীল সিংকে। গারুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান থাকাকালীন এই ব্যপ্তি ছিল শুধু পুর এলাকাতেই। এখন তা ইছাপুর, শ্যামনগর, পলতা এবং বারাকপুরের বিস্তীর্ণ জায়গায় ছড়িয়েছে। এদিনও সেই উদ্দেশ্যেই গারুলিয়া মেইন রোডের বাড়ি থেকে রওনা দিয়েছিলেন।

অন্যদিনের থেকে এদিন একটু পার্থক্য ছিল। বনধ রুখতে একটি জলদিই এলাকায় বেড়িয়েছিলেন বিধায়ক সাহেব। সকালের খাওয়াটাও সারা হয়নি। নিজের খালি পেট ভরতে তিনি রওনা হয়েছিলেন ইছাপুরের কন্ঠাদ্ধারের এক দোকানে।

সেই সময়েও তাঁর দোসর ছিলেন রেল অবরোধ করতে আসা ওই বিজেপি কর্মী। তাঁকেও সকালে চা এবং লুচি-চানা মশলা খাইয়েছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং। তাঁর কথায়, “জগদ্দল থেকে আমার নোয়াপড়ায় এসেছিল ট্রেন অবরোধ করতে। ওনাকে আমার গাড়িতে করে ঘুরিয়ে সকালের খাবার খাইয়ে বিজেপি নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছি। এলাকায় শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আবেদন করেছি।”

সঙ্গত কারণেই এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন ওই বিজেপি কর্মী। খুব কষ্টের সঙ্গে মাথা নিচু করে উদরস্থ করেছেন নোয়াপড়ার বিধায়কের দেওয়া খাবার। এই বিষয়ে স্থানীয় এক বিজেপি নেতা বলেছেন, “ভয়ে বিধায়কের সঙ্গে যেতে হয়েছিল। আর ভয়ের কারণেই বিরোধী বিধায়কের দেওয়া খাবার খেতে হয়েছে।” অপর এক বিজেপি নেতা বলেছেন, “সকালে আমাদের ইছাপুরের পার্টি অফিস ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। এরপর আমাদের কর্মীকে খাবার খাইয়ে উনি নাটক করছেন।”

আরও পড়ুন- ইছাপুরে বিজেপির পার্টি অফিস পোড়াল তৃণমূল

এদিন সকালে ইছাপুর রেল স্টেশন অবরোধ করে বিজেপি কর্মীরা। সকাল ৬ টায় শুরু হয় অবরোধ। প্রায় আধ ঘণ্টা অবরোধ চলার পরে নোয়াপাড়া থানার পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়। যদিও এই ঘটনার জেরে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ মেইন লাইনের স্বাভাবিক পরিষেবা। এরপরে ইছাপুর স্টেশন সংলগ্ন বিজেপির পার্টি অফিসে তৃণমূল ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর কিছুই জানা নেই বলে দাবি করেছেন নোয়াপাড়ার বিধায়ক সুনীল সিং।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ