কলকাতা: নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী রইল বিধানসভা। এক মহিলা বিধায়ক বিরোধী দলের এর এক মহিলা বিধায়ককে দিলেন ধর্ষণ করানোর হুমকি। শনিবার অধিবেশন চলাকালীন বাম বিধায়ককে উদ্দেশ্য করে কুরুচিকর মন্তব্য করেন তৃণমূল বিধায়ক। পরে অধ্যক্ষের নির্দেশে হাতজোড় করে ক্ষমা প্রার্থনাও করতে হয় তাঁকে। দলেরই বিধায়কের এহেন মন্তব্যে বেজায় অস্বস্তিতে পড়েছে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও।

শনিবার বাজেট সংক্রান্ত আলোচনা চলছিল বিধানসভায়। বাজেট নিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন মেমারির তৃণমূল বিধায়ক নার্গিস বেগম। নার্গিস বেগমের কিছু মন্তব্য ঘিরে আপত্তি তোলেন ধনেখালির তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্র। অসীমা পাত্রের পর জামুড়িয়ার সিপিএম বিধায়ক জাহানারা খানও নার্গিস বেগমের মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান।

নার্গিসের সমালোচনা করে জাহানারা বলেন, ‘যাঁদের যা সংস্কৃতি, তাঁদের মুখে তেমনই ভাষা’। জাহানারার এই মন্তব্যে যারপরনাই ক্ষুব্ধ হন তৃণমূল বিধায়ক নার্গিস বেগম। নার্গিস বেগম জাহানারার উদ্দেশে বলে ওঠেন, ‘তোমার ধর্ষণ হবে।’ শাসকদলের বিধায়কের প্রকাশ্যে এহেন মন্তব্যে শোরগোল পড়ে যায় বিধানসভার অন্দরে। তাঁকে বিঁধে ধর্ষণের হুমকি দেওয়ায় কেঁদে ফেলেন সিপিএম বিধায়ক জাহানারা খানও।

এদিকে, দলেরই বিধায়কের এই মন্তব্যের জেরে অস্বস্তিতে পড়ে যায় তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বও। নার্গিসের মন্তব্যের নিন্দায় সরব হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমরা। তারপর বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে নার্গিস বেগমের বিরুদ্ধে নালিশ জানান বাম বিধায়ক জাহানারা খান।

একইসঙ্গে নার্গিস বেগমের মন্তব্যের নিন্দা করেন খোদ অধ্যক্ষও। প্রত্যেক বিধায়ককে তাঁদের আচরণ এবং ভাষা সংযত করতে আবেদন জানান বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরই তৃণমূল বিধায়ককে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেন অধ্যক্ষ। বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশের পরই সিপিএম বিধাযকের কাছে হাতজোড় করে ক্ষমা চান তৃণমূল বিধায়ক নার্গিস বেগম।

এদিকে, ক্ষমা চাওয়ার পরে আবারও নিজের অবস্থান বদল করেন তৃণমূল বিধায়ক। নিজের মন্তব্যের সাফাই দিতে গিয়ে তিনি জানান, জাহানারাকে তিনি বলতে চেয়েছিলেন যে তাঁর প্রস্তাবমতো ধর্ষণ নিয়ে বিধানসভায় পরে আলোচনা হবে। যদিও নার্গিসের এই সাফাইয়ে আমল দেননি বিরোধীরা।