বহরমপুর: বক্তব্য শেষ করে সভায় থাকা শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বিধায়ক স্লোগান দিলেন ‘লাল সেলাম’। মঞ্চে তখন উপস্থিত রাজ্যের মন্ত্রী এবং দাপুটে তৃণমূল নেতা শুভেন্দু অধিকারী।

আরও পড়ুন- বাম বিক্ষোভে ভেস্তে গেল বিবেকানন্দের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান

অবাক হচ্ছেন! শিরোনাম বা সূচনা একদম ভুল পড়েননি। এমনই ঘটেছে সাগরদিঘির সভায়। মুর্শিদাবাদ জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী এবং জেলার অন্যান্য নেতাদের উপস্থিতিতে বক্তব্যের শেষে ‘লাল সেলাম’ বলেছেন তৃণমূল বিধায়ক কানাই মণ্ডল।

 

আসলে ভুলটা ঠিক কানাইবাবুর নয়। ভুলটা হচ্ছে তাঁর অভ্যাসের। প্রায় সাড়ে চার দশক বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। সিপিএম-এর সদস্যও ছিলেন। গত মাসে যোগ দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলে। এত সহজে কি আর অভ্যাস যায়! সেই অভ্যাস বশতই বলে ফেলেছেন ‘লাল সেলাম’। ভুল স্লোগান দিয়ে বুঝতে বিলম্ব হয়নি নবগ্রামের বিধায়ক কানাই মণ্ডলের। নিজেই লজ্জায় জিভ কেটে ফেলেন। তবে ততক্ষণে সভায় হাসির ফোয়ারা ছুটতে শুরু করেছে।

রাজ্যের বামপন্থী কৃষক আন্দোলনের একটি প্রথম সারির মুখ হচ্ছেন কানাই মণ্ডল। ১৯৭৭ সালে তিনি সিপিএম-এর সদস্যপদ পেয়েছিলেন। এরপরে পঞ্চায়েত সদস্য এবং পঞ্চায়েত প্রধানও হয়েছেন। তৃণমূলের ভরা বাজারেও ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তিনি জিতেছেন সিপিএম-এর টিকিটেই। সেই কানাই মণ্ডল গত ডিসেম্বর মাসে দুই তারিখে হাতে তুলে নেন ঘাস ফুলের পতাকা।

বেফাঁস স্লোগান বিতর্কে অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটেছেন বিধায়ক কানাই মণ্ডল। তবে এই বিষয়ে সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য বলছেন, “দীর্ঘ দিনের অভ্যেস কি এত সহজে বদলানো যায়? সবে তো এক মাস হয়েছে কানাইদার দলত্যাগ। মা মাটি মানুষের ভাষা রপ্ত করতে কিছু দিন সময় তো লাগবেই।’’

এই ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এই একই ভুল করেছিলেন রেজিনগরের বিধায়ক রবিউল ইসলাম চৌধুরী। ২০১৬ সালে কংগ্রেসের হয়ে জিতেও নাম লিখিয়েছিলেন তৃণমূল শিবিরে। সেই সময় এক সভায় বক্তব্য শেষ করে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিন্দাবাদ, মা-মাটি-মানুষ জিন্দাবাদ বলার পরেই ‘অধীর চৌধুরী জিন্দাবাদ’ বলেই ভুল শুধরে নিতে জিভ কেটে হেসে ফেলেন তিনি।

সেদিন বক্তব্য রাখতে উঠে শুভেন্দু অধিকারী হাসতে হাসতে শুরুতেই বলেন, ‘‘এত দিনের অভ্যাস এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি রবিউলদা। আশা করছি দ্রুত কেটে যাবে।’’ তবে কানাই মণ্ডলের ক্ষেত্রে তেমন কিছু বলেননি শুভেন্দুবাবু।