হলদিয়াঃ রাতারাতি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদলে মাওবাদী পোস্টার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। মাওবাদী পোস্টারকে কেন্দ্র করে এখন আতঙ্কে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারাও। তবে কিভাবে এই ধরনের পোস্টার পড়লো তার তদন্তে নেমেছে স্থানীয় মহিষাদল থানার পুলিশ।

বুধবার বর্ষবরণে রাতে যখন গোটা এলাকায় বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে যখন সেজে উঠেছে গোটা এলাকা। আর ঠিক সেই সময় রাতারাতি মহিষাদলের জগৎপুর গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে মাওবাদী পোস্টার। আর এই পোস্টার ঘিরে নতুন বছরে আনন্দের বদলে আতঙ্ক গ্রাস করেছে এলাকাবাসীদের মানে। জগৎপুর গ্রামের প্রায় চারটি পৃথক জায়গায় ৩ তৃণমূল নেতার নাম উল্লেখ করে পড়েছে এই মাওবাদী পোস্টার। এই পোস্টারের মধ্যে ওই নেতাদের প্রাণনাশের হুমকিও পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। জগৎপুর গ্রামের স্থানীয় রাম মাজী, গোকুল সাঁতরা ও ছবিলাল দাস এলাকা তৃণমূল নেতা হিসেবেই পরিচিত। রাতের অন্ধকারে এই তৃণমূল নেতার ওপর প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে একাধিক পোস্টার। আর এর জেরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়।

এই হুমকি পোস্টারের মধ্যে নেতার নাম দিয়ে লেখা রয়েছে, “তুই খুব বাড় বেড়েছিস। শেষবারের মতো তোকে সাবধান করে দিচ্ছি। বৌকে যদি বিধবা করতে না চাও এবং নিজের মাথা থেকে শরীর যদি আলাদা করতে না চাও সাবধান হয়ে যাও”। মহিষাদলের শান্তিপ্রিয় জগৎপুর গ্রামে এই ধরনের হুমকি দিয়ে পোস্টারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। পোস্টারের মধ্যে হুমকির পাশাপাশি পোস্টের নিচে লেখা রয়েছে ইতি মাওবাদী। আর এই মাওবাদী শব্দকে কেন্দ্র করে এখন আতঙ্কিত গোটা এলাকার মানুষজনেরা। আদতে সত্যিই কি এই পোস্টারের মধ্যে কোন মাওবাদীদের হস্তক্ষেপ রয়েছে নাকি স্থানীয়দের হাত? সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে স্থানীয়দের মনে।

তবে স্থানীয় অধিকাংশদের মতে, এই কাজ স্থানীয় কিছু মানুষজনই ঘটিয়েছে। বুধবার এই পোস্টারের পাশাপাশি তৃণমূল নেতা রাম মাজী ও গোকুল সাঁতরার পুকুরেও রাতের অন্ধকারে কেউ বা কারা বিষ ঢেলে দিয়ে গেছে। আর তাই এই ঘটনায় আদতে মাওবাদী কার্যকলাপকে দূরে সরিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে প্রতিবেশী দ্বন্দ্বের ফল হিসেবে ধরছেন সকলে। এই ধরনের পোস্টারের কথা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে স্থানীয় মহিষাদল থানার পুলিশ গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পোস্টগুলি খুলে নিয়ে চলে যায়। আদতে ওই তিন ব্যক্তি তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত হলেও এই ঘটনায় কোন রাজনৈতিক কারণ নেই বলেই মত তৃণমূল-বিজেপি উভয় দলেরই।

এনিয়ে স্থানীয় বিজেপি নেতা দিলীপ মিশ্র জানান, “আমাদের এই গ্রাম শান্তিপ্রিয় গ্রাম। এখানে তেমন রাজনৈতিক কোন হিংসা নেই আমাদের মধ্যে। তাই এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় কোন প্রতিবেশীদের দ্বারা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে রাজনৈতিক কোনও কারণ নেই”।

অপরদিকে স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা সম্পা পাড়ই ও তার তৃণমূল নেতা স্বামী জানান, “রাতের অন্ধকারে কে বা কারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে ঠিক আমরা বলতে পারছিনা। তবে এর মধ্যে কোন রাজনৈতিক প্রসঙ্গ নেই বলেই মনে হচ্ছে”। অপরদিকে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তিলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, “আমার কাছে এধরনের কোনো খবর এখনো পর্যন্ত নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি বিষয়টি।” সবমিলিয়ে রাতারাতি এই ধরনের মাওবাদী লেখা পোস্টার ঘিরে এখন আতঙ্কিত স্থানীয় এলাকার বাসিন্দারা।