শেখর দুবে, কলকাতা: বাইপাস ধরে সায়েন্সসিটি থেকে কিছুটা এগিয়ে গেলেই তৃণমূল কংগ্রেস ভবন। টিএমসি-র রাজ্য সদর দফতর। বৃহস্পতিবার সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ভোটগণনার দিন সকালে মোটামুটি চুপচাপ তৃণমূল সদর দফতর। সকাল ন’টা অবধি তৃণৃমূল নেতৃত্বের বড় মুখ বলতে এক সুব্রত বক্সীকে আসতে দেখা গেল। গাড়ি থেকে নেমে সোজা এগিয়ে গেলেন নিজের রুমের দিকে।

সকাল আটটা থেকে ভোট গণনস শুরু হতেই দেশের প্রায় ২৯৯ টি সিটে এগিয়ে গিয়েছে এনডিএ, ১১৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে UPA এবং ১১৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে অন্যান্যরা। রাজ্যের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রে বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ স্লোগান তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ভোট গণনার সকালে ৯টা ৫০ মিনিট অবধি রাজ্যের চিত্রটা তৃণৃূলের জন্য মোটেও সুখকর নয়। রাজ্যের ৩৮ টি সিটের মধ্যে ১৯ টি আসনে এগিয়ে তৃণমূল।

এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বুথ ফেরৎ সমীক্ষাকে সত্যি প্রমাণ করে রাজ্যে ১৯ টি আসনে এগিয়ে বিজেপি। ২০১৪ লোকসভায় বাংলায় বিজেপির সিট সংখ্যা ছিল মাত্র দু’টি সেখান থেকে চমকপ্রদ হারে ভোট বাড়িয়ে রাজ্যের শাসক দলের ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে বিজেপি। স্বভাবতই তৃণমূল সদর দফতরের পরিস্থিথি থমথমে। অফিস রুমে টিভির দিকে চোখ রেখে বসে রয়েছেন যে কজন অফিস স্টাফ এবং কর্মীসর্মথকরা রয়েছেন। সংবাদমাধ্যমকেও বলে দিচ্ছেন সন্ধ্যে ছ’টার পর আসতে। ছবি তুলতেও নিষেধ করছেন।

বোঝাই যাচ্ছে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলফলার শুরুটা একেবারেই স্বস্তিদায়ক নয় ঘাষফুল শিবিরের জন্য। অন্যদিকে বাংলা ঝোড়ো ইনিংশ শুরু করেও অনেকটাই হিসেবি মুরলীধরের বিজেপি সদর। বিশ্বকাপে ভারত পাকিস্থান ম্যাচের মতোই টানটান উত্তেজনার ম্যাচ দেখার অনুভূতির কথা বলছেন বিজেপি সমর্থকরা।