হলদিয়া: নির্বাচনে এখন পাখির চোখ নন্দীগ্রাম।কারণ, নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে লড়াই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বনাম একদা তাঁরই দলের অন্যতম সেনাপতি বর্তমান বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর। নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম মামলা ঘিরে সরগরম হতে শুরু করেছে রাজনৈতিক হাওয়া।

আদালতের নির্দেশে একের পর নেতার গ্রেফতারির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে নন্দীগ্রামে। গতবছরের মাঝামাঝি সময়ে নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে যুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের কাজ শুরু করেছিল রাজ্য সরকার। কেননা ক্ষমতায় আসার সময়েই মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তৃণমূল। চার্জশিট জমা হয়ে গেলেও অভিযোগ প্রত্যাহারে সরকারি আইনজীবীরা আপত্তি না করার মামলাগুলি প্রত্যাহারের পথে চলে যায়। সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন তৃণমূল নেতা ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী। তিনি বলেছিলেন প্রায় সাড়ে চারহাজার পরিবার দীর্ঘ লড়াই থেকে মুক্তি পেয়েছে।

শুভেন্দুবাবু বলেছিলেন, আন্দোলনের সৈনিক হিসেবে তাঁর দায়বদ্ধতা ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি রাখায় তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। তবে সিপিএম-এর তরফে বলা হয়েছিল ভোট সামনে আসায় পুলিশ ও প্রশাসনকে দিয়ে পদক্ষেপ করিয়েছে তৃণমূল।

যদিও রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাটি করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা নন্দকুমার বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন অধিকারী। গত ৫ মার্চ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ ফের মামলাগুলি চালু করার নির্দেশ দেয়। যা নিয়ে সোমবার হলদিয়া আদালতে শুনানি হয়। আর সন্ধেয় রায় দেন বিচারক।

বিজেপি নেত্রী নীলাঞ্জন অধিকারীর অভিযোগ, যেভাবে অভিযুক্তদের ওপর থেকে মামলা তোলা হয়েছিল, তা আইন মেনে হয়নি। সেই কারণেই আদালতের গ্রেফতারির নির্দেশ।

সরকারি কাজে বাধা, হিংসা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ৪০৬ টি মামলা হয়েছিল নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়ে একটি বাদ দিয়ে সবগুলি গতবছর প্রত্যাহার করেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু সোমবার আদালতের নির্দেশের জেরে অভিযুক্তদের জামিন নাকচ হয়ে যায়। গ্রেফতারিরও নির্দেশ দেয় আদালত। প্রসঙ্গত এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের শেখ সুফিয়ান, আবু তাহেরের মতো নেতারা। ফলে নির্বাচনের আগে এই নির্দেশের জেরে বেকায়দায় পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

জমি আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্ব সেখ সুফিয়ান বলেন, নির্বাচনের আগে ভয় দেখানোর জন্য বিজেপি এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। এখন বিজেপির আসল রূপ বেরিয়ে পড়ছে। বিজেপি যে এই আন্দোলনকে সমর্থন করেনি এতেই প্রমাণ হয়ে যায়। অন্যদিকে আবু তাহের বলেছেন এই মামলাগুলি ছিল বাম সরকারের মিথ্যা মামলা। দুজনেই বলছেন আইন মেনেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তারা উচ্চতর আদালতে যাবেন।

সবমিয়ে বলা যেতে পারে নন্দীগ্রাম বিধানসভা দখল করতে তৃণমূল ও বিজেপি কেউ এক ইঞ্চি জায়গা ছাড়তে নারাজ। এখন দেখার বিষয় আদলতের রায়ের পর মামলা কোনদিকে গড়ায়।

নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চার তরফে সিপিআইএম প্রার্থী করেছে দলের যুব সংগঠনের নেত্রী মীনাক্ষি মুখার্জি কে। তিনিও এলাকা ঘুরে প্রচার শুরু করেছেন। বাম প্রার্থীর দাবি, নন্দীগ্রামের যুব সম্প্রদায়ের বেরোজগারি প্রবল। সেই ধাক্কা লাগছে শাসক দল তৃণমূলে। আর যারা আজকে বিজেপি, তারাই দলছুট তৃণমূলী।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.