স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: ভোটের মুখে রাজ্যে শাসক দলের আরও এক নেতার খুনের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল৷ তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর রবিবার উদ্ধার হল কাঁথির দাপুটে তৃণমূল নেতা রীতেশ রায়ের দেহ। জেলায় অমিত শাহের সভার পর থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী ঘনিষ্ট এই নেতা।মৃত রীতেশ রায় কাঁথি ৩ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির দুরমুঠ এলাকার অঞ্চল সভাপতি ছিলেন।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি কোলাঘাটের বন্ধু শৌভিক চক্রবর্তীর ফোন পেয়ে তড়িঘড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা রীতেশ রায়। তারপর থেকেই রীতেশের ফোন বন্ধ ছিল৷ ফলে পরিবারের কারোর পক্ষেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এরপরই মারিশদা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন তারা৷গত রবিবার কলকাতা 24×7-এও সেই খবর প্রকাশিত হয়৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৭ তারিখ রাতেই দাদপুর থানা থেকে একটি ছবি পাঠানো হয় মারিশদা থানায়।দাদপুরের কাছে জাতীয় সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছিল নাম পরিচয়হীন একটি মৃতদেহ। সেই উদ্ধারস্থল থেকে মৃতের ফোন বা পরিচয় পত্র পাওয়া যায়নি। মারিশদা থানার পুলিশ রীতেশের পরিবারের লোকজনকে থানায় ডাকা হয়। সেখানে এক ব্যক্তির মৃতদেহের ছবি দেখান হয় পরিবারের সদস্যদের। সেই ছবি দেখে দাদপুর থানায় গিয়ে ছবির ব্যক্তিকে নিজের বাবা বলে সনাক্ত করেন রীতেশের ছেলে।

প্রশ্ন উঠছে, মালদহ যাবেন বলে বেরলেও দাদপুরে কীভাবে রীতেশের দেহ পাওয়া গেল। তবে কি তাঁকে অপহরণ করেই শেষপর্যন্ত খুন করা হয় দাদপুরে নিয়ে গিয়ে! নাকি নিছকই দুর্ঘটনা! ময়ণাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে মনে করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে৷ মৃতদেহের চোখের পাশে ক্ষতচিহ্ন দেখা গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে৷

২৯ জানুয়ারি কাঁথির পদ্মপুখুরিয়াতে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের সভাকে কেন্দ্র করে তুমুল গন্ডগোল বাঁধে। রীতেশ রায়ের বাড়ির ঢিল ছোঁড়া দূরত্বেই অমিত শাহের সেই সভা হয়েছিল। সেদিন সভা যাওয়ার ও ফেরার পথে বিজেপি কর্মীদের মিছিল চাঁদবেড়িয়া ও দূরমুঠ তৃণমূল পার্টি অফিসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে বলে অভিযোগ। তারপরই রীতেশ রায় তাঁর অনুগামীদের নিয়ে পাল্টা হামলা চালান বলে অভিযোগ। এরপর ৭ তারিখ সন্ধ্যা থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান রীতেশ রায়। এই ঘটনায় বিজেপির বিরুদ্ধে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ এনেছে তৃণমূল। তবে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।

শনিবার নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়কের সত্যজিৎ বিশ্বাসের খুনের পর থেকেই রীতেশ রায়ের পরিবার উদ্বিগ্ন ছিল। তাঁর স্বামীর গায়েব হওয়ার পেছনে কোনও বড়সড় চক্রান্ত রয়েছে কিনা তা নিয়ে চূড়ান্ত আশঙ্কায় ছিলেন পরিবারের লোকেরা।

সেই আশঙ্কাই সত্যি হল এদিন। নদীয়ার বিধায়ক খুন ও রবিবার বিকেলে মেদিনীপুরে পর পর গুলি চালানোর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রীতেশের ছেলে বলেন, ছবিতে দেখা ব্যক্তির দেহ বাবারই। আমি চাই দোষীরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শাস্তি পাক। কে বারা খুন করল তার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ৷