স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: সংরক্ষণের গেরোয় পড়তে পারেন তৃণমূলের হেভিওয়েট কাউন্সিলররা। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তৃণমূল নেতৃত্বের। পুরভোটে বেশ কিছু ওয়ার্ডে সংরক্ষণের জেরে আগের অবস্থান পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এবারে পুরভোটে দাঁড়াতে পারবেন না প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী, বর্তমান ইংলিশ বাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতৃত্ব। আর এই নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে রাজ্যের ১১০টি পুরসভার ভোট করাতে পারেন রাজ্য নির্বাচন কমিশন। তৃণমূল সূত্রে এমনই খবর। তার আগে পুরসভা গুলির আইনগত বিষয়গুলি খতিয়ে দেখছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। যার মধ্যে সংরক্ষণ অন্যতম। ইংরেজবাজার পুরসভার রয়েছে ২৯ টি ওয়ার্ড। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এই পৌরসভা চালাচ্ছেন তৃণমূল। ২০১৫ সালের নির্বাচনে ১২, ১৪ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড তফশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত ছিল। তবে এবারে ২২, ২৬ এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ড তফশিলি জাতি সংরক্ষিত হতে পারে এবং ১, ৩, ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮, ২১, ২৫ ও ২৮ নম্বর ওয়ার্ড মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হতে পারে। এমনই খবর তৃণমূল সূত্রে।

১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত কাউন্সিলর হয়েছিলেন নিহার রঞ্জন ঘোষ। বর্তমানে তিনি ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান। তাঁর আসনটি সংরক্ষণের আওতায় পড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই ভাবে আশীষ কুন্ডু, প্রসেনজিৎ দাস, চৈতালি সরকার সহ একাধিক হেভিওয়েট কাউন্সিলরদের ওয়ার্ড সংরক্ষণের আওতায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে টিকিট পাওয়া নিয়ে তৈরি হতে পারে জটিলতা।

এই বিষয়ে ইংরেজবাজার পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা জেলা তৃণমূল নেতা দুলাল সরকার বলেন, সংরক্ষণের এই তালিকা এলে সমস্যায় পড়তে পারেন অনেকেই। সেক্ষেত্রে টিকিট দেওয়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে জেলা নেতৃত্বকে। সেক্ষেত্রে তিনি আর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলেও জানিয়েছেন। এই সংরক্ষণের পেছনে দলেরই একাংশের মদত আছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহার রঞ্জন ঘোষ বলেন, সরকারি নিয়ম মেনে সংরক্ষণের তালিকা তৈরি করবে জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে তাদের কিছুই করার নেই। সেক্ষেত্রে দল সিদ্ধান্ত নেবে কাকে কোন ওয়ার্ডে দাঁড় করানো হবে।

জেলা তৃণমূলের সভানেত্রী মৌসুম নূর বলেন, ১৭ জানুয়ারির মধ্যে সংরক্ষণের তালিকা পাওয়া যাবে। প্রশাসন সেই তালিকা দিলে। দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে বৈঠক করব। এরপরে পুরো নির্বাচনের রণকৌশন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অজয় গাঙ্গুলি বলেন, সংরক্ষণ নিয়ে তৃণমূলের মাথাব্যথা থাকতেই পারে। ২৯ টি ওয়ার্ডের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য বিজেপি প্রস্তুত আছে।