স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার লোধা-শবরদের অন্ধকার জীবনকে আলোকজ্জ্বল করতে বিশেষ কমিটি তৈরি করেছেন৷ উৎসবের মরশুমের ঠিক পরেই ১৫ দিনের মধ্যে শবর সম্প্রদায়ের সাত জনের মৃত্যু হয় লালগড় ব্লকের পূর্ণাপাণি গ্রাম সংসদের জঙ্গলখাসে৷ নড়েচড়ে বসে রাজ্য সরকার৷

তবে, সিপিএমের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসই সর্ষের মধ্যে ভূত উৎপন্ন করছে৷ সরকার শবরদের গ্রামে মাংস-ভাতের আয়োজন করে গ্রামবাসীদের মন ভোলালেও স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের ‘দূর্নীতি’ ঢাকা পড়ছে না৷ শবরদের দূর্দশা খুঁজতে দিয়ে সরকারি ‘সার্চলাইটের’ আলোয় দৃষ্টিকটু ভাবে ধরা পড়ে গিয়েছে তৃণমূল নেতাদের ‘চোখ ধাঁধানো’ সম্পত্তি৷ শবরদের গ্রামে মুখ লুকানোর জায়গা নেই শাসকদলের৷

শনিবার সকালে সিপিএম টুইট করে এলাকায় তৃণমূল নেতাদের সম্পত্তির বিষয়টি সামনে এনেছে৷ সিপিএমের মুখপত্র গণশক্তিতেও ছাপা হযেছে ওই খবর৷ টুইটে সিপিএমের বক্তব্য, ‘‘চোখ ধাঁধানো সম্পত্তি তৃণমূল নেতাদের। গ্রামের সবচেয়ে বড় বাড়িটি রথীন মাহাতো তৃণমূলের শিলদা অঞ্চল কমিটির সভাপতি। গোপীবল্লভপুর-১নং পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুধাংশু নায়েকের বিরাট বাড়ি হচ্ছে।

এমনকি একটি বজরঙবলির মন্দিরও তার উদ্যোগে তৈরি হয়েছে এলাকায়’’ – টুইট করে জানিয়েছে সিপিএম৷ প্রশ্ন তোলা হয়েছে, ‘‘অথচ পূর্ণাপানির আদিবাসী মহল্লা তে গত ১৫ দিনে ৮ জনের শবরের অনহারে মৃত্যু হয়েছে।শুক্রবার মাংস ভাত খেতে দেওয়া হয়েছিল পূর্ণাপানির শবর পাড়ায়। প্রশাসন, জেলা পরিষদের উদ্যোগে। যেখানে অনাহার কোনও সমস্যাই নয় বলে রাজ্য সরকার মনে করছে, সেখানে হুমড়ি খেয়ে পড়ে খাবার দেওয়া কেন?’’

 

সাত শবর-মৃত্যুর ঘটনার পর দ্রুত মৃত্যু সংবাদ পায়নি রাজনৈতিক দলগুলি৷ তৃণমূলেরই কয়েকজন নেতা লালগড়ের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য বিজল সাহাকে বিষয়টি জানান৷ খবর পৌঁছায় ব্লক অফিসে৷ শাসকদল ঝাড়গ্রামের উন্নয়ন করেনি, তা বলতে পারেনা সিপিএমও৷ কিন্তু, যেখানে উন্নয়ন হয়েছে, সেখানে তৃণমূলের কায়েমী স্বার্থ জড়িত ছিল৷

সিপিএমের বক্তব্য, শবরদের গ্রাম বাদ দিলে ঝাড়গ্রামের চকচকে রাস্তা, বাড়ি বাড়ি বিদ্যুৎ, রাস্তায় জলের কল দেখতে পাওয়া যাবে৷ শহুরে এলাকায় উন্নয়নের কাটমানি যাচ্ছে তৃণমূল নেতাদের পকেটে৷ কিন্তু শবরদের পাড়ায় উন্নয়ন করতে মহা ঝামেলা৷ লাভও নেই৷ ওখানে লাইট লাগিয়ে কী হবে, অধিকাংশ শহরের ভোটার কার্ডই যে নেই৷

এলাকায় একজন শবরের থেকে আধার কার্ড, জব কার্ড বা রেশন কার্ডও খুঁজে পাওয়া যাবে না৷ রেশন ডিলাররা নাকি জমা রেখেছেন রেশন কার্ড৷ জ্বর আসবে, সেই কারণে শিশুকে টিকা দেয়না শবররা, ঘরের মধ্যেই চলছে মায়ের প্রসব৷ উন্নয়নের রাজ্যে থেকেও প্রান্তিক মানুষ হয়ে বেঁচে রয়েছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারির প্রতিবেশিরা৷