প্রদ্যুত দাস, জলপাইগুড়ি:  জলপাইগুড়ির কংগ্রেস বিধায়ক ড:‌ সুখবিলাস বর্মার বাড়িতে হঠাত তৃণমূল নেতা দুলাল দেবনাথ। শনিবার সন্ধ্যায় একেবারে দুই মেরুতে থাকা রাজনীতিবিদের দীর্ঘক্ষণ কথা হয়। আর তা নিয়েই জলপাইগুড়ির বিভিন্ন রাজনৈতিকমহলে শুরু হয়ে গিয়েছে জোড় জল্পনা। তবে কি বিধানসভা এবং পুরসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস বিধায়ক সুখবিলাস বর্মাকে কাছে টানার চেষ্টা করছে তৃণমূল? আর সেই কারণেই কংগ্রেস বিধায়কের বাড়িতে তৃণমূল নেতারা?‌ তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

রাজনৈতিকমহলের একাংশের ব্যাখ্যা, দেখা গিয়েছে রাজ্যে বিরোধী বলে কিছু রাখেনি শাসকদল তৃণমূল। ভয় কিংবা অন্যান্য বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে একের পর এক বাম কিংবা কংগ্রেস বিধায়কদের তৃণমূলে যোগ দেওয়ানো হয়েছে। এই ক্ষেত্রেও মমতা তাঁর দূত পাঠালেন? বলছেন রাজনীতির কারবারিরা।

যদিও বিষয়টিকে একেবারেই পারিবারিক ও সৌজন্য সাক্ষৎ‌ বলে দাবি করেছেন বিধায়ক ড:‌ সুখবিলাস বর্মা। শুধু বিধায়কই নয়, বিষয়টি শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ বলেই জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা দুলাল দেবনাথ। কিন্তু তাও যেন জল্পনা কাটছে না।

জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি শহরের তেলিপাড়া এলাকায় বিধায়কের ফ্ল্যাট রয়েছে। আর সেখানেই হঠাত করেই হাজির হন দুলাল দেবনাথ। বিধায়ক সুখবিলাস বর্মার হাতে ফুলের তোড়া ও স্মারক গ্রন্থ সহ দুটি বই তুলে দেন তৃণমূল নেতা দুলাল দেবনাথ। জলপাইগুড়ির তৃণমূল কিষান খেত মজদুর সংগঠনের জেলা সভাপতি ও জেলা পরিষদের সহ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন দুলালবাবু। সাক্ষাতের পর দুলাল দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৯ সালে বিধায়ক ড.‌ সুখবিলাস বর্মার সান্নিধ্যে এসেছিলাম আমি। উত্তরবঙ্গের রাজবংশী সম্প্রদায়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় আইএএস অফিসার হয়েছেন। প্রাক্তন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর আমলে একজন সৎ আইএএস অফিসার হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন ড.‌ সুখবিলাস বর্মা। উত্তরবঙ্গের ভাওয়াইয়া গবেষক ও গায়ক হিসেবেও তাঁর সুনাম রয়েছে। বরাবরই পরনিন্দা পরচর্চা থেকে দূরে থাকেন তিনি। সব মিলিয়ে উত্তরবঙ্গের একজন গর্বের মানুষ তিনি। তাঁর সান্নিধ্যে আসাটা আমার কাছে অনেক সৌভাগ্যের।

শুধু তাই নয়, দুলাল দেবনাথ সাংবাদিকদের আরও বলেন, ড.‌ সুখবিলাস বর্মার কাছে আসার কারণ, তাঁর কাছ থেকে কিছু প্রশাসনিক পরামর্শ নেওয়া। এছাড়া ড.‌ সুখবিলাস বর্মার স্ত্রীকে আমি মা বলেই সম্বোধন করি। অন্যদিকে ড.‌ সুখবিলাস বর্মা বলেন, আমার সঙ্গে কারও কখনও খারাপ সম্পর্ক রয়েছে তা আমি মনে করতে পারি না। তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক নেতার সঙ্গেই ভাল সম্পর্ক রয়েছে আমার। কিন্ত কারও কাছ থেকে কখনও কোনও সুযোগ চেয়েছি এমন দাবি করতে পারবেন না কেউ।

একই সঙ্গে বিধায়ক আরও বলেন, দুলাল দেবনাথের সঙ্গেও একটা হৃদতার সম্পর্ক রয়েছে আমার। দুলাল অনেকটা পারিবারের সদস্যের মত। আমার স্ত্রীকে মা বলে সম্বোধন করে। আপ্লুত হয়ে বিধায়ক সুখবিলাস বর্মা বলেন, দুলাল আমার জন্য ফুল, মিষ্টি ও ডায়েরি এনেছে। জলপাইগুড়ির সার্ধশতবর্ষের স্মারক গ্রন্থও নিয়ে এসেছে। যদিও কংগ্রেস ও তৃণমূলের এই দুই নেতার সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্যেই বৈঠক ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে।