নিজস্ব প্রতিনিধি, কোচবিহার: কার্বাইন হাতে তৃণমূল নেতার ফেসবুক পোস্ট, ‍‍‘আমি দিনহাটা ডন নম্বর ওয়ান’৷ সেই ছবি ঘিরে কার্যত হইচই শুরু হয়ে গিয়েছে বিভিন্ন মহলে৷ দিনহাটার ওই তৃণমূল নেতার নাম নরেশ দেবনাথ৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি ভাইরাল হতেই উত্তাল জেলা রাজনীতি৷ এ ছবি দেখে চোখ কপালে উঠেছে পুলিশেরও৷ ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই জানিয়েছে তারা৷

বারবার বোমা, গুলির শব্দে কেঁপে উঠেছে দিনহাটা৷ পঞ্চায়েত ভোটের আগে থেকে দিনহাটায় যুব তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে দফায় দফায় গণ্ডগোলের অভিযোগ উঠেছে৷ দলের তরফে তা স্বীকার না করা হলেও সে ঝামেলার আভাস এখনও জেলার লোকজন টের পাচ্ছেন৷

এরইমধ্যে তৃণমূল নেতা নরেশ দেবনাথের এই ছবি ঘিরে স্বভাবতই চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে জেলাজুড়ে৷ জানা গিয়েছে, নরেশ দেবনাথ আটিয়াবাড়ি-২ গ্রামপঞ্চায়েতের সদ্য নির্বাচিত তৃণমূলের উপপ্রধান মধুমিতা অধিকারীর স্বামী।

আরও পড়ুন: রাজ্য সভাপতিকে ঘিরে অসন্তোষ, তৃণমূলে যোগ বিজেপি কর্মীদের

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে তিনি কার্বাইন হাতে একটি ছবি পোস্ট করেন৷ যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে ঘুরছে সে ছবি৷ বিরোধীদের অভিযোগ, তৃণমূলের শাসনকালে এই রাজ্য যে বারুদের স্তূপে পরিনত হয়েছে এগুলিই তার প্রমাণ৷ যদিও এই কার্বাইন আদৌ আসল কি না তা এখনও প্রমাণ হয়নি৷ তবু বিষয়টি ভালোভাবে দেখছে না বিরোধী শিবির৷

বিজেপি নেতা নিখিলরঞ্জন দে অভিযোগ করেন, তৃণমূল নেতাদের হাতে কার্বাইনের মত অস্ত্র ঘুরছে আর পুলিশ কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছে না৷ অথচ বিনা অপরাধে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই ঘটনায় তদন্তের দাবি করেছেন তিনি। আগামী চার দিনের মধ্যে এই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার না করা হলে তাঁরা পুলিশসুপারের দফতর ঘেরাও করবে বলেও জানিয়েছেন নিখিলবাবু৷

যদিও এরকম কোনও ঘটনা ঘটেছে বলে জানেন না বলে দাবি দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ’র৷ বলেন, “এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই৷ যদি কেউ এমনটা করে থাকে তবে চাইব পুলিশ তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক৷’’

আরও পড়ুন: লাঞ্চের আগেই মাইলফলক কোহলির

কিন্তু যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সেই তৃণমূল নেতা নরেশ দেবনাথ বা তাঁর স্ত্রী কারও কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি৷ মোবাইল ফোনের সুইচ অফ করা৷ তাঁরা এলাকা ছেড়েছেন বলেই মনে করছেন বিরোধীরা৷ পুলিশসুপার ভোলানাথ পাণ্ডে জানিয়েছেন, ঘটনাটি নজরে এসেছে৷ তদন্ত চলছে৷