স্টাফ রিপোর্টার, বারাসত: রাজ্য সরকার বনাম রাজ্যপাল সংঘাতের প্রভাব পড়ল কালীপুজোতেও। রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় মণ্ডপ উদ্বোধন করবেন বলে পুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন তৃণমূল নেতা তথা বারাসত পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়৷

ওই পুজো কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কয়েক বছর তরুছায়া ক্লাবের কালিপুজো কমিটির প্রধান উপদেষ্টা পদে রয়েছেন পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায়। এ বছরও পুজো কমিটির প্রাধন উপদেষ্টা পদে ছিলেন সুনীলবাবুই। এ বছর তাঁদের পুজো পঞ্চশ বছরে পা দিচ্ছে। আর তাই সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে এবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে দিয়ে মণ্ডপ উদ্বোধনের সিদ্ধান্ত নেয় পুজো কমিটি। পুজো কমিটির এই সিদ্ধান্ত জানার পরই প্রধান উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ান পুরপ্রধান তথা এলাকার তৃণমূল নেতা সুনীল মুখোপাধ্যায়। সুনীলবাবু বলেন, ‘‘পুজো কমিটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক আমি, আর আমিই জানবো না যে কী হচ্ছে বা না হচ্ছে! সে কারণেই আমি সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। রাজ্যপালের কর্মকাণ্ড আমার ভাল লাগে না। রাজ্যপাল এখানে এসে যা করছেন সেটা একটা দলীয় স্বার্থে করছেন। উনি নিরপেক্ষ নন। সেই কারণেই ওঁর অনুষ্ঠানে আমি যাব না বলে ঠিক করেছি’’।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় শাসক দলের সঙ্গে রাজ্যপালের সংঘাত চরমে উঠেছে৷ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে একাধিকবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র বিক্ষোভে আটকে পড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে উদ্ধার করতে রাজ্যপাল যে ভাবে ক্যাম্পাসে চলে গিয়েছিলেন তা শাসক দলকে বেশ বেগ গিয়েছে৷ এমনকি রেড রোডে রাজ্য সরকার আয়োজিত কার্নিভালে তাঁকে আলাদা বসার জায়গা দিয়ে অপমান করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন রাজ্যপাল৷ পরে তাঁর কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্যের সঙ্গে ধনকড়ের বিরোধ বাঁধে৷ তাঁর ডাকা প্রশানিক বৈঠকে সরকারি অফিসারদের অনুপস্থিতি নিয়েও মমতার প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি৷

এর প্রভাব যে সরাসরি কালীপুজোতে পড়বে সেটা আঁচ করতে পারেনি ওই পুজো কমিটি৷ তবে পুজো কমিটির বক্তব্য, সুনীল মুখোপাধ্যায় তাদের সঙ্গে রয়েছেন। এক উদ্যোক্তা জানিয়েছেন, সুনীলবাবুর নামটা শুধু তাঁরা ব্যবহার করতে পারবেন না৷

তবে, এদিকে আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বাড়ির কালীপুজোয় রাজ্যপালকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে খবর৷ শোনা যাচ্ছে তিনি রাজ্যপালকে নাকি ভাইফোঁটাও দিতে চান৷