মন্তেশ্বর (পূর্ব বর্ধমান): গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলে এমনিতেই মন্ত্রীমশাই কিছুটা কোণঠাসা, তায় আবার উড়ে এসে জুড়ে বসেছেন বলে খোদ তৃণমূল কর্মীরাই গলা ফাটিয়েছে ভোটের আগে। ভোটের দিন সকালে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনায় টিএমসি কর্মীরা যখন বুথছাড়া তখন তাদের ‘অভয়’ দিতে এলেন মন্তেশ্বরের টিএমসি প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

হেভিওয়েট সিদ্দিকুল্লার কল্যাণে পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বর এখন আলোচিত। এখানে দেখা গিয়েছে মন্ত্রী নিজে হেলমেট পরে বুথে বুথে ঘুরছেন। সঙ্গে দেহরক্ষীরা। যে কোনও মুহূর্তে হামলার আশঙ্কা করছেন তিনি। তাই হেলমেট পরে মাথা বাঁচানোর চেষ্টা। এর আগে কোচবিহারের নানাবাড়িতে একইভাবে হেলমেট পরে ভোটের দিন নেমেছিলেন অপর মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। পঞ্চম দফার ভোটে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী তেমনই বেশে ভোট দেখলেন।

ঘটনার সূত্রপাত মন্তেশ্বরের গালাতুন এলাকার ৪০ ও ৪১ বুথে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, সংযুক্ত মোর্চার সিপিআইএম কর্মীরা বারবার আক্রমনাত্মক চেহারা নিয়েছিল। এরপর আসরে নামে বিজেপি। তৃণমূলের এজেন্টদের বুথে বসতে দেওয়া হয়নি। মারধর করে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই খবর পেয়ে ঘটনস্থলে হেলমেট পরেই যান প্রার্থী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী।

বিরোধী সিপিআইএম ও বিজেপির তরফে দাবি, তৃণমূল প্রবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণেই সব বুথে এজেন্ট বসাতে পারছে না। কারণ সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী কে নিয়ে টিএমসি বিভক্ত।

জেলার মন্তেশ্বর বিধানসভায় মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লার কাঁটা সংযুক্ত মোর্চার আইএসএফ প্রধান আব্বাস সিদ্দিকীর গরম ভাষণ। সংখ্যালঘু জনসংখ্যার শতাংশ বেশি থাকায় আব্বাসের ভাষণের প্রভাব পড়ছে। তায় আবার টিএমসি প্রার্থী এলাকার কেউ নন। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী গতবার মঙ্গলকোট থেকে জয়ী হন। সেখানে তিনি দলীয় রোষের মুখে পড়ছিলেন। তাঁকে মঙ্গলকোট থেকে সরিয়ে মন্তেশ্বরে প্রার্থী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এক নজরে মন্তেশ্বের: মুসলিম ভোট ৪০ শতাংশ।
আদিবাসী ভোট ২৫ শতাংশ। সাধারণ ভোটার ৩৫ শতাংশ।
তিন ভোটের পরিসংখ্যান ভাগাভাগি হবে এতেই সিঁদুরে মেঘ তৃণমূল শিবিরে। সেই সঙ্গে অভিযোগ, গত দশ বছরের অনুন্নয়ন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাসের।

এই কেন্দ্রের গতবারের জয়ী সৈকত পাঁজা টিএমসি ছেড়ে বিজেপির হয়ে লড়াই করছেন। তিনি প্রয়াত বিধায়ক সজল পাঁজার পুত্র। পিতার রহস্যজনক মৃত্যুর জন্য টিএমসি কে দায়ি করছেন।

সংযুক্ত মোর্চার সিপিআইএম প্রার্থী অনুপম ঘোষের প্রতি সমর্থন আইএসএফ প্রধান আব্বাস সিদ্দিকীর। ফলে বিরাট সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটে ধরেছে ফাটল, এমনই মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বামেদের নিজস্ব ভোট রয়েছে। সবমিলিয়ে ত্রিমুখী লড়াই জোরদার। অনুপম ঘোষের দাবি, এলাকার বিরাট পরিযায়ী শ্রমিকরা মনে রেখেছেন লকডাউনের সময় সাহায্য।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.