স্টাফ রিপোর্টার, সিউড়ি: বিধানসভা নির্বাচনে বুথ জ্যাম করে ভোট করব। মুরারইতে জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের সামনেই এই মন্তব্য করলেন তৃণমূলের বুথ সভাপতি নীলরতন মাহারা। তিনি বলেন, “বিজেপিকে প্রয়োজনে বুথে যেতে দেব না। কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের কাজ করবে। তৃণমূল নিজের কাজ করবে।” এইপ্রকাশ্যে দলীয় নেতার এই মন্তব্যে কিছুটা অস্বস্তিতেই পড়ে গিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল।

বৃহস্পতিবার হিয়াতনগড়ে এক মাদ্রাসায় আয়োজন হয়েছিল তৃণমূলের কর্মী সম্মেলনের। সেই সভায় পাইকার ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ২৫০ নম্বর বুথের তৃণমূল নেতা নীলরতন মাহারাকে অনুব্রত মণ্ডল প্রশ্ন করেন, ‘কী করে ভোট বাড়াবেন?’

জবাবে নীলরতনবাবু বলেন, ‘ভোট বাড়াবোই। দরকারে বুথ জ্যাম করে ভোট করব।’ সঙ্গে সঙ্গে ওই ব্যক্তিকে থামিয়ে দেন অনুব্রত। বলেন, না না ওসব করতে হবে না। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি বলেন, মানুষ ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই ভোট দেবেন। বুথ সভাপতি এরকম কোনও কথা বলতে চাননি। আবেগের বশে বলেছেন। কারোর একজনের বক্তব্য দলের কথা নয়।

তবে অনুব্রত মণ্ডল যাই বলুন, সভা থেকে বেরিয়েও নিজের মন্তব্যে অনড় ছিলেন নীলরতন বাবু। ওই তৃণমূল নেতার দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেও কিছু করতে পারবে না নির্বাচন কমিশন। কারণ কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বুথের ভিতর। গ্রাম জ্যাম করে দেবেন তাঁরা।

উল্লেখ্য, ওই তৃণমূল নেতা ২০০৩ সালে ঘাসফুলে নাম লিখিয়েছেন। তার আগে তিনি বামফ্রন্টে ছিলেন। গত কয়েক বছরে যখনই নির্বাচন হয়েছে, শাসকদলের বিরুদ্ধে রিগিং ও বুথ জ্যামের অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

মুরারইয়ে তৃণমূল বুথ সভাপতির এই মন্তব্যের পর অনুব্রতর বিরুদ্ধে আক্রমণের সুপ চড়িয়েছেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেছেন অনুব্রতর মনের কথাই বলেছেন বুথ সভাপতি। অনুব্রত মণ্ডল যেমন বোমা-গুলির দমে ভোট জিততে চান। সেটাই বলেছেন তৃণমূল বুথ সভাপতি।

জেলবন্দি তথাকথিত অপরাধীদের আলোর জগতে ফিরিয়ে এনে নজির স্থাপন করেছেন। মুখোমুখি নৃত্যশিল্পী অলোকানন্দা রায়।