প্রতীতি ঘোষ, বারাকপুর: টানা দু’বার জয়ের পরে লোকসভা নির্বাচনে বারকপুরে পিরাস্ত হয়েছে তৃণমূল। ২০০৯ সালের পরে বারাকপুরের সকল নির্বাচনে জিতেছে তৃণমূল। ২০১৬ সালে নোয়াপাড়া বিধানসভা কংগ্রেস পেলেও পরে তা তৃণমূলের দখলে এসেছে।

গত কয়েক মাসে বদলে গিয়েছে চিত্রটা। এই মুহূর্তে বারাকপুরে অভিভাবকহীন হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এমনই মনে করেন ভাটপাড়ার তৃণমূল নেতা তথা ভাটপাড়া পুরসভার অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান সোমনাথ তালুকদার। আজ মঙ্গলবার ভাটপাড়া পুরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচন। যা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজেপির দখলে যেতে চলেছে।

ভাটপাড়ার চেয়ারম্যান নির্বাচনের আগে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উপরে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে সাংবাদিকদের সামনে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সোমনাথবাবু। তাঁর নিশানায় ছিলেন নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক। তিনি বলেছেন, “ব্যারাকপুর তথা ভাটপাড়া এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস দল আজ অভিভাবকহীন। কর্মীরা এখন কোথায় যাবে? ব্যারাকপুর লোকসভা ভোটের যিনি দ্বায়িত্বে ছিলেন, সেই নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিককে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমি তার সঙ্গে কোন ভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না।”

একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “নৈহাটিতে যত না সমস্যা হয়েছে তার থেকে অনেক বেশি নির্যাতিত হয়েছে এই ভাটপাড়া এবং জগদ্দল এলাকার তৃণমূল কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রীকে আসল তথ্য দেওয়া হয়নি। কেন দলীয় নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীকে আগে নৈহাটি নিয়ে গেল? কার স্বার্থে? অধিকাংশ তৃণমূল কর্মীরা এর উত্তর জানতে চায়। ওর (পার্থ ভৌমিক) জন্যই আজকে আমাদের দলের ২৫ জন কাউন্সিলর বিজেপিতে যোগ দিল।”

অর্জুন সিং বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে ভাটপাড়া পুরসভা তৃণমূলের দখলেই তাকবে বলে দাবি করেছিলেন পার্থ ভৌমিক। যদিও পরে তা বাস্তবায়িত হয়নি। অর্জুন সিং সাংসদ হওয়ার পরে অধিকাংশ কাউন্সিলর বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। ভাটপাড়া পুরসভা হাতছাড়া হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনেও পরাস্ত হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী মদন মিত্র।

চেয়রাম্যন নির্বাচনের জন্য এদিনের বোর্ড মিটিং-এর বিষয়ে সোমনাথ তালুকদার বলেছেন, “ভাটপাড়া পুরসভার অ্যাকটিং চেয়ারম্যান হিসেবে আমাকে বোর্ড মিটিং ডাকতে চিঠি দিয়েছে। প্রায় তিন মাস পুর পরিষেবা বন্ধ। মানুষের সেবা করার জন্য আমরা রাজনীতি করি। পরিষেবা বন্ধ হলে মানুষের সমস্যা। আমাকে মিটিং ডাকতেই হবে।”

বারাকপুরের সাংসদ অর্জুন সিং সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা শোনা গিয়েছে সোমনাথ তালুকদারের মুখে। নেতা হিসেবে অর্জুন যোগ্যতম ব্যক্তি বলেও দাবি করেছেন তিনি। এই সারবত্তা সকলের মেনে চল উচিত বলেও জানিয়েছেন সোমনাথবাবু। তাঁর মতে, “অর্জুন সিং এমন একটা রাজনৈতিক চরিত্র যিনি সবসময় মানুষের সঙ্গে থাকে। যে সিপিএম আমল থেকে দিদির সঙ্গী হয়ে রাজনৈতিক লড়াইটা দাপটের সঙ্গে করেছে। মানুষের বিপদে আপদে সে পাশে থাকে। মানুষ এবার স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে তাকে বেছে নিয়েছে। এই বাস্তব সত্যিটা যত দ্রুত মানবে ততই ভালো।”

একই সঙ্গে আক্ষেপের সুরে সোমনাথ তালুকদার আরও বলেছেন, “জগদ্দল এলাকায় মানুষ বিধায়ক পরশ দত্তকে পায়না। এলাকার লোক সেই সময় স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করার কথা বলেছিল দল মত দেয়নি। এখন দলীয় কর্মীরা অসহায়। কোথায় যাবে দলের কর্মীরা?”

সম্প্রতি শ্যমনগরের কাউগাছি এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে বিজেপি। সকল জয়ী সদস্য পদ্মের পতাকাতলে গিয়েছেন। এর মধ্যে কোনও ভুল দেখেছেন না সোমনাথবাবু। তাঁর কথায়, “কাউগাছি ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরা মনে করেছে অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে থাকলে তাদের কাজ করতে সুবিধা হবে তাই সবাই দল ত্যাগ করেছে। গণ তান্ত্রিক দেশে এটাতে আমি কোন অন্যায় দেখি না।” তাঁর এই ধরণের মন্তব্য যে দল ভালভাবে নেবে না সেই বিষয়ে অবগত রয়েছেন সোমনাথ তালুকদার। বক্তব্যের শেষে তিনি বলেছেন, “আজকে আমি দলে আছি, দল আমাকে তাড়িয়ে দিতেই পারে।”