স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: নবমীর রাতে দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে তৃনমূল নেতার খুনের ঘটনায় নয়া মোড় আনল পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃনমূলের দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংস ভাবে খুন হয় তৃনমূলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বছর বত্রিশের জনপ্রিয় যুব নেতা কুরবান শাহ। সূত্রের খবর, ওই নেতা পাঁশকুড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি ও পাঁশকুড়া ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি ছিলেন। শুধু তাই নয় তাঁর স্ত্রী সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে তৃণমূলের ওই নেতার খুনের ঘটনায় বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে রাজনৈতিক দোষারোপ করা শুরু হয়ে যায়। জানা গিয়েছে নিহত তৃনমূল নেতা কুরবানের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলে রাজ্যের পরিবহন মন্ত্রী তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নেতা শুভেন্দু অধিকারী কুরবান শাহের খুনের ঘটনায় নাম না করে এর পিছনে তৃণমূলেরই প্রাক্তন যুব নেতা তথা বর্তমান বিজেপি নেতা আনিসুর রহমানকেই দায়ি করেছেন তিনি। যদিও কুরবান খুনের ঘটনায় আনিসুরের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই বিজেপি নেতা।

অন্যদিকে কুরবানের পরিবার স্থানীয় পুলিশের পরিবর্তে এই খুনের ঘটনার সিআইডি তদন্ত দাবি করেছে বলে জানা গিয়েছে। পরিবহন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন সিআইডি সিট গঠন করে তদন্ত করা হবে। মন্ত্রীর কথা মতো সিট তদন্তে নেমেছে। পুলিশ সূত্রে জানাগিয়েছে সন্দেহজনক বেশ কয়েকজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। পরে তাদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হয় পুলিশের তরফে। যদিও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এই বিষয়ে এখনও কিছু জানায়নি। তবে কুরবানের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ জমা হওয়ার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে এবং তৃনমূল নেতা কুরবানের খুনের ঘটনায় আর কে কে জড়িত আছে তাঁদেরকেও খুব শীঘ্রই ধরে ফেলা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ।

প্রসঙ্গত, নবমীর দিন রাতের বেলা অর্থাৎ সোমবার রাত ১০টা নাগাদ অন্যান্য দলীয় সঙ্গীদের সঙ্গে কুরবান নিজেদের দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে বসে ছিলেন। আচমকাই সেখানে অফিসের বাইরে পাঁশকুড়ার দিক থেকে তিনটি বাইকে করে সাতজন দুস্কৃতি গুলি ছুঁড়তে ছুঁড়তে কুরবান শাহ’র অফিসের সামনে এসে দাঁড়ায়। নিজের অফিসে তিনজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন কুরবান। আর অফিসের বাইরে কিছু দূরে গল্প করছিল কুরবানের অনুগামীরা। বাইক থামিয়ে দুষ্কৃতিরা সোজা কুরবানের কাছে চলে যায় এবং খুব কাছ থেকে তাঁর হৃদপিণ্ড ও মাথায় পর পর একাধিকবার গুলি করে। ফলে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। হতচকিত ভাব কাটিয়ে উঠেই কুরবানের অনুগামীরা দুষ্কৃতিদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়লেও তারা ফের গুলি করতে করতেই এলাকা থেকে চম্পট দেয়। খবর পেয়েই ছুটে আসে পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। পরে পুলিশ এসে কুরবানের মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।