স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ভোট পরবর্তী হিংসায় প্রাণ গেল এক তৃণমূল কর্মীর। একই সঙ্গে ওই ঘটনায় জখম হয়েছেন আরও কয়েকজন। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে।

ঘটনাটি পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসী দুই নম্বর ব্লকের সাটিনন্দী গ্রামের। ৫০ বছর বয়সী নিহত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম জয়দেব রায়। দলের কর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হয়েছেন আরও তিন ঘাস ফুলের সমর্থক।

মৃত জয়দেব রায়ের স্ত্রী চম্পা রায় জানিয়েছেন, পেশায় কলমিস্ত্রী জয়দেববাবু কাজ সেরে বাড়ি ফিরে আসেন। রাত্রি প্রায় সাড়ে সাতটার সময় তিনি চা খেয়ে সাইকেল নিয়ে স্থানীয় কলাবাগান মোড়ে যান আড্ডা দিতে। এরপর রাত্রি প্রায় সাড়ে নটা নাগাদ বিজেপি সমর্থকরা সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালায় তাঁর ওপর।

বিজেপি সমর্থকরা লাঠি, রড, টাঙি নিয়ে তার ওপর আক্রমণ চালায়। এই সময় তাকে বাঁচাতে আরো কয়েকজন তৃণমুল কর্মী এগিয়ে এলে তাদের ওপরও আক্রমণ চালানো হয়। এরপরই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় জয়দেব রায় সহ মোহন পুইলে,বলরাম মালিক,অনিল মালিককে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে মঙ্গলবার ভোরে মৃত্যু হয় জয়দেব রায়ের। বাকিরা চিকিত্সাধীন। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

গ্রামবাসীদের একাংশের দাবী, কলাবাগান মোড়ের একদিকে বিজেপির কয়েকজন কর্মী পিকনিক করছিল। সেখান থেকেই জয়দেববাবুকে লক্ষ্য কটুক্তি করেন। পরে তৃণমূল নেত্রী সম্পর্কেও তাঁরা কটুক্তি করতে থাকেন। প্রত্যেকেই মদ্যপ ছিলেন। এই ঘটনায় জয়দেব রায় প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাঁকে বাঁচাতে আরও কয়েকজন তৃণমূল কর্মী ছুটে আসলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসার পর মঙ্গলবার ভোরে জয়দেব রায়ের মৃত্যু হয়।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় এদিন বিকালে গলসী তৃণমুল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এলাকায় ধিক্কার ও শোক মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। খুনের ঘটনার খবর পেয়েই এদিন দুপুরে হাসপাতালে ছুটে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বর্ধমান জেলার প্রাক্তন পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস, তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ সহ জেলার পদস্থ তৃণমূল নেতারা। বিজেপির হাতে তৃণমূল নেতার এই খুনের ঘটনায় এদিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল রাজ্য নেতৃত্ব। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের পর সাটিনন্দী গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বপনবাবু এদিন তৃণমূল সমর্থক জয়দেব রায়ের খুন হবার ঘটনায় জানিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিজেপি গোটা রাজ্যে হিংসার খেলায় মেতেছে। কিন্তু তাঁরা গণতান্ত্রিকভাবেই এর মোকাবিলা করবেন। সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এর প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। অপরদিকে, এই ঘটনায় বিজেপির কোনো যোগ নেই বলে সাফ দাবি করেছেন বিজেপির গলসী ২ ব্লকের সভাপতি কালিকারঞ্জন চ্যাটার্জ্জী। তিনি জানিয়েছেন, এটা সম্পূর্ণভাবেই তৃণমূল কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।

লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই চলছে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষ। রাজ্যের সব প্রান্তেই কমবেশি একই ধরণের ঘটনা ঘটেছে। সন্দেশখালি, বসিরহাটের পর এবার পুর্ব বর্ধমানের গলসী থানার সাটিনন্দী গ্রামে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় জেলার রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।