তিমিরকান্তি পতি,বাঁকুড়া: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরেই বাঁকুড়ায় ঘর ভাঙল শাসক দলের। তৃণমূল জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক অরুপ খাঁ এর গড় হিসেবে পরিচিত ওন্দার রতনপুর গ্রামপঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান শ্যামল বরণ মণ্ডল সহ ছয় সদস্য শনিবার বিজেপিতে যোগ দিলেন।

উল্লেখ্য, বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের অরুপ খাঁ যে এলাকার বিধায়ক সেই ওন্দাতেই লোকসভা ভোটে বিপুল ভোটে হেরেছে শাসক দল। এই ঘটনার পর এই গ্রাম পঞ্চায়েত নিজেদের দখলে রাখতে ঘাসফুল শিবিরকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন জেলা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

গত ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ১৫ সদস্যের রতনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সব কটি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। প্রধান নির্বাচিত হন ওই দলের শ্যামল বরণ মণ্ডল। বৃহস্পতিবার ২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই দেখা যায় জেলার দুই লোকসভা আসন তৃণমূলের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি। এদিন বিষ্ণুপুর লোকসভা কেন্দ্রের ওন্দার রতনপুরে বিজেপির পক্ষ থেকে বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়। সেই মিছিলে অংশ নেন রতনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান শ্যামল বরণ মণ্ডল সহ ছয় সদস্য।

মিছিলে অংশ নিয়ে প্রধান শ্যামল মণ্ডলের অভিযোগ, ‘‘তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। আমি কাজ করতে চাই। অথচ নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে কাজ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। আমি মানুষের মাঝে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। আর সেটা সম্ভব বিজেপিতে।’’ তাই ছয় সদস্য সহ নিয়ে বিজেপিতে যোগদান করলেন বলে শ্যামল বরণ মণ্ডল দাবি করেন।

এই বিষয়ে তৃণমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি অরুপ খাঁকে টেলিফোন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টা শুনেছি। খোঁজ নিয়ে দেখছি। চাপ সৃষ্টি করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে কিনা জানতে হবে।’’ সব কিছু বিষদে জেনে দলীয়ভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে তিনি জানান।