স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ২০ লক্ষ টাকা ফেরত চেয়ে বীরভূমের তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে ফোনে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল দলেরই নেতা তথা গুসকরা পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়কে বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার দুপুরে গুসকরার স্কুলমোড় থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হুমকির কথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। বর্ধমানের গুসকরা পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর তিনি। এলাকায় তৃণমূলের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়।

ধৃত কাউন্সিলরের অভিযোগ, স্ত্রীর অসুখের সময়ে তাঁর থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। ফেরৎ না দেওয়ায় সেই টাকা চেয়ে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

নিত্যানন্দবাবু বলেছেন “কেষ্ট মণ্ডলকে স্ত্রীর অসুখের সময় ২০ লক্ষ টাকা ধার দিয়েছিলাম। বলেছিলেন, ৩, ৪ মাসের মধ্যে ফেরৎ দেবেন। বিশ্বাস করে ধার দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন তা ফেরৎ দিতে অস্বীকার করছেন। আমার কাছে ধার নেওয়ার প্রমাণ আছে। তবু উনি দিচ্ছেন না। তাই হুমকি দিয়েছি। টাকা আমার ফেরৎ চাইই।”

এমনকি পরে অনুব্রত মণ্ডলের ‘কলার ধরে’ তিনি টাকা আদায় করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন। বলেছেন, প্রয়োজনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও যাবেন। যদিও প্রাক্তন কাউন্সিলরের থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অনুব্রত।

তিনি বলেছেন, “ওর কাজই হুমকি দিয়ে বেরানো। লাইসেন্স ও বিনা লাইসেন্সেও আগ্নেয়াস্ত্র আছে, আমি ওর থেকে কোনও টাকা ধার নিইনি।”

উল্লেখ্য, কদিন আগেই দলের এক কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো ও বোমাবাজির মামলায় আগাম জামিন পেয়েছেন নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় সহ ৫ জন।

শুধু তাই নয়, চলতি বছরের অগাস্ট মাসে তাঁর ফেসবুকে দল ছাড়ার একটি পোস্ট ঘিরে শোরগোল পড়ে যায় বর্ধমানের গুসকরা শহরে।

নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় তখন বলেছিলেন, “দলে যোগ্য সম্মান পাচ্ছি না, প্রতিনিয়ত অপমানিত হতে হচ্ছে। নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক আমাকে কোনও মিটিং-এ ডাকে না। দল যখন আমাদের মতো বৃদ্ধকে চায় না, তখন সম্মান থাকতে চলে যাওয়াই ভালো।”

তাঁর অভিযোগ, বিষয়টি দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি-কে এসএসএম করে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি। তাহলে কি অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন? সেই সম্ভাবনা খারিজ করে দেন নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। এখনও তিনি তৃণমূলেই আছেন বলে খবর।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।