প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: নিমতার তৃণমূল নেতা খুনে চাঞ্চল্যকর মোড়৷ সুপারি কিলার দিয়ে নির্মল কুণ্ডুকে খুন করা হয়েছে৷ তৃণমূল নেতা খুনে ধৃত দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেফতারের পরেই পুলিশের কাছে এই তথ্য উঠে আসে৷ নির্মল খুনে বিজেপি জড়িত বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল৷ প্রাথমিক তদন্তে বিজেপি যোগের প্রমাণও মিলেছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের একজন বিজেপি কর্মী৷ সেই নির্মলকে খুন করার জন্য মুর্শিদাবাদ থেকে সুপারি কিলার ভাড়া করে নিয়ে আসে৷ তবে খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়৷ ধৃতদের জিঞ্জাসাবাদ চলছে৷

উত্তর দমদম পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি নির্মল কুণ্ডুকে গতকাল ভর সন্ধেবেলায় প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে মারা হয়৷ দুস্কৃতীরা বাইকে করে পাটনা ঠাকুরতলা এলাকায় আসে এবং নির্মলের মাথা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে৷ খুনের পরেই চম্পট দেয় দুস্কৃতীরা৷ মাথায় হেলমেট পড়া ছিল বলে কেউ তাদের মুখ দেখতে পারেনি৷ দলের নেতা খুনের ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করে তৃণমূল নেতৃত্ব৷ এই ঘটনায় গভীর রাত পর্যন্ত উত্তপ্ত থাকে উত্তর দমদম এলাকা৷

ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ১২ ঘণ্টার মধ্যে দুই জনকে গ্রেফতার করে৷ ধৃতরা হল সুমন কুণ্ডু ও সুজয় দাস ওরফে রানা৷ হুগলির উত্তরপাড়া এলাকার এক গোপন আস্তানা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়৷ পুলিশ জানিয়েছে, এই দুজন খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত ছিল। তাদের কাছ থেকে একটি ওয়ান শটার বন্দুক ও তিন রাউন্ড গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে৷

অভিযুক্তদের ধরতে সিসিটিভির সাহায্য নেয় পুলিশ৷ ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, দুজন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে তৃণমূল নেতাকে খুন করে৷ তারপর বাইকেই পালিয়ে যায়৷ গোপন আস্তানা থেকে সেই বাইকটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ৷ বুধবার দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর বারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (অঞ্চল ২) আনন্দ রায় নিমতা থানায় সাংবাদিক বৈঠক করেন৷ তিনি বলেন, “দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সুমন কুন্ডুর বাড়ি এই অঞ্চলেই। সে বিজেপি কর্মী বলে এলাকায় পরিচিত। অন্যজনের নাম সুজয় দাস ওরফে রানা। সে মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা। এই দুজন খুনের ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ। তবে খুনের কারণ এখনও স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।’’

এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কিনা তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে তদন্ত সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন৷ এদিকে পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত সুজয় দাস একজন সুপারি কিলার। তাকে মুর্শিদাবাদ থেকে খুনের সুপারি দিয়ে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে পুলিশের সন্দেহ মূল ষড়যন্ত্রকারী সুমনই। তার সঙ্গে নির্মলের কিসের শত্রুতা ছিল তা জানার চেষ্টা চলছে। কয়েকদিন আগে নিমতার প্রতাপ গড় এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার বদলা নিতেই এই খুনের ঘটনা কিনা, তাও জানার চেষ্টা করছে নিমতা থানার পুলিশ।