স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ৫০ টাকায় খোদ নদীবাঁধই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বর্ধমানের পাঁচ তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। বুধবার এই ঘটনায় ওই পাঁচ নেতার নামে পোষ্টার দেওয়া হয় বর্ধমান পুরসভার ২১ ও ২২ নং ওয়ার্ড জুড়ে। যে সমস্ত নেতাদের নামে এই পোষ্টার দেওয়া হল তাঁরা বর্ধমানের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের অস্থায়ী কর্মী হিসাবেও নিযুক্ত।

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। কারণ এদের মধ্যে এমন অনেক নেতা রয়েছেন যাঁদের বিরুদ্ধে সিপিএম আমলেও দাদাগিরি এবং তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বুধবার তাঁদের নামে এই পোস্টার পড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের পাশাপাশি অবিলম্বে এব্যাপারে তদন্তেরও দাবি উঠেছে। এরই পাশাপাশি এদিন ২৬নম্বর ওয়ার্ডেও দুই তৃণমূল নেতার নামে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে পোস্টার দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, সোমবারই বর্ধমান পুরসভার পাঁচিলে পুরসভার দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল খোকন দাসের বিরুদ্ধে কাটমানির পোস্টার সহ মহিলা সংক্রান্ত পৃথক একটি পোস্টার ঘিরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায় শহর জুড়ে। এর আগেও ৩৫ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সনত বক্সীর নামে এবং ২৮ নং ওয়ার্ডেও বিচ্ছিন্নভাবে কাটমানির টাকা ফেরতের দাবিতে পোস্টার পড়ে। বুধবার সকালেই তৃণমূলের একাংশ বেশ কিছু পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে দিলেও এই ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে মূহূর্তের মধ্যে।

২১ ও ২২নং ওয়ার্ডে যে পাঁচ তৃণমূল নেতার নামে পোষ্টার দেওয়া হয়েছে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী, কেউ রাজ কলেজের কর্মী, কেউ আবার জেলা সর্বশিক্ষা দপ্তরের কর্মী। এঁরা সকলেই অস্থায়ী কর্মী। ২১ ও ২২ নং ওয়ার্ডে পোষ্টারে লেখা হয়েছে মাথা পিছু ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২৫-৩০ টি পরিবারকে ওই ৫ নেতা বাঁকা নদীর পাড় যা সেচ দফতরের অধীন সেই জমি বিক্রি করে দিয়েছেন। অবিলম্বে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হতে পারে যে কোনও মূহূর্তে। অন্যদিকে, ২৬ নং ওয়ার্ডে সবুজ ও সীট নামে দুই নেতার নামে কাটমানির টাকা ফেরত দেবার দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এ‌ব্যাপারে তৃণমূলের নেতাদের কোনও নেতাই কিছু বলতে রাজি হননি।

অন্যদিকে, কাটমানি কাণ্ডে এবার বর্ধমান ১নং ব্লক অফিস ঘেরাও করলেন পালিতপুর এবং মনগিরা গ্রামের বাসিন্দারা। বুধবার সকাল থেকে বিডিও অফিসে ঘেরাও করে তাঁরা ১০০ দিনের কাজ সহ বাংলা আবাস যোজনায় তৃণমূল নেতাদের নেওয়া টাকা ফেরতের দাবী জানাতে থাকেন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজ করিয়েও এখনও তাঁরা টাকা পাননি। এছাড়াও বাংলা আবাস যোজনার বাড়ি দেবার নাম করেও তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। এদিন তাঁরা বিডিওর কাছে এই টাকা ফেরতের দাবী জানিয়েছেন। যদিও এব্যাপারে বর্ধমান ১নং ব্লকের বিডিও কোনো কথাই বলতে চাননি।