ফাইল ছবি৷

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বাম কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন গুলির যৌথ মঞ্চের ডাকে চিত্তরঞ্জন থেকে কলকাতা ‘লং মার্চে’র সমর্থণে বাঁকুড়ার কোতুলপুরে পথে হাঁটলেন সিপিএম নেতা কর্মীরা। সোমবার সিআইটিইউ এর রাজ্য সহ সম্পাদক কিংকর পোষাকের নেতৃত্বে সিহাস মোড় থেকে বামুনাড়ি পর্যন্ত লাল পতাকাবাহি দীর্ঘ মিছিলে অসংখ্য মানুষ অংশ নিলেন।

কিংকর পোষাক এদিন তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধনা করার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও একহাত নেন। রাজ্য সরকারের বেশ কিছু নীতির কড়া সমালোচনার পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘তৃণমূল এখন রাজীব কুমারকে বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছে। কারণ রাজীব কুমার না বাঁচলে ওই দল বাঁচবেনা’। এই কঠিন পরিস্থিতিতে একমাত্র বামপন্থীরা সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় লড়াই করে যায়, আগামী দিনেও করবে বলে তিনি দাবী করেন।

এদিন মিছিলের মাঝেই কোতুলপুর নেতাজী মোড়ে এক পথ সভায় সিআইটিইউ এর রাজ্য সহ সম্পাদক কিংকর পোষাক ‘লং মার্চে’র উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্র গুলি হয় বিক্রি নয়তো বন্ধ করে দিচ্ছেন। সাধারণ মানুষের কথা না ভেবে একচেটিয়া পুঁজিবাদীদের স্বার্থরক্ষাই এখন কেন্দ্রীয় সরকারের মূল লক্ষ্য হয়ে দাড়িয়েছে।

এই সব সম্পত্তি বিজেপি সরকারের ‘পৈতৃক সম্পত্তি’ নয় দাবী করে তিনি বলেন, এই সম্পত্তি দেশের জনগণের। এই রাজ্যে চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন থেকে বেঙ্গল কেমিকেল সহ অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ব ক্ষেত্র বন্ধের চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, এর ফলে আমারা অন্ধকারে ডুবে যাবো। রেল, বিমান, বিমান বন্দর, তৈল ক্ষেত্র, প্রতিরক্ষা সহ সর্বত্রই আক্রমণ নেমে আসছে। আর এই ঘটনার পরেও এরাজ্যে বিজেপি-তৃণমূল নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর চিত্তরঞ্জন রেল ইঞ্জিন কারখানা থেকে কেন্দ্রীয় বাম ট্রেড ইউনিয়ন গুলির ডাকে রাজ্যে শিল্প স্থাপন, বেকার, ক্ষেতমজুরদের কাজ, এনআরসি-র বিরোধী সহ বেশ কিছু দাবীতে ‘লং মার্চ’ শুরু হয়েছে। ২৮৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে আগামী ১১ ডিসেম্বর, বুধবার কলকাতার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে সেই ‘লং মার্চ’ পৌঁছাবে। পাশাপাশি রাজ্য জুড়েই সমান্তরাল ভাবে সিপিএম সহ অন্যান্য বামপন্থী রাজনৈতিক দল গুলির তরফে ‘লং মার্চে’র সমর্থণে মিটিং, মিছিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে।