স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: দেশজুড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলিকে বিলগ্নিকরণের প্রতিবাদে জোরদার আন্দোলনের পথে হাঁটছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন৷ ১৬ আগষ্ট থেকে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসছে তারা৷

শনিবার ধর্মতলার রানি রাসমণি অ্যাভিনিউয়ের এক সভায় রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমবলেন, কারও বাড়ি তৈরি করে দিতে গিয়ে কেউ যদি এক হাজার টাকাও কাটমানি খেয়ে থাকেন, তা ফেরত দিতেই হবে। কিন্তু একের পর এক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি ব্যবসায়ীদের বিক্রি করে হাজার হাজার কোটির কাটমানি তো বিজেপি খাচ্ছে। এখন পর্যন্ত এইসব সংস্থা বিক্রি করে কত কোটি টাকা কাটমানি বিজেপি খেয়েছে, তার জবাব নরেন্দ্র মোদিকে দিতে হবে৷ তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন আম্বানি-আদানিদের দালাল। ভারতের সম্মান আমেরিকার কাছে বিকিয়ে দিয়েছেন। মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ভাগাভাগি করে ভুলিয়ে রেখে দেশের সমস্ত সম্পদ বেচে দেওয়ার খেলায় নেমেছে বিজেপি৷

ফিরহাদ বলেন, একদিকে যেমন বিএসএনএল-এর মতো সরকারি সংস্থার পরিষেবার গুণমান ইচ্ছে করে কমিয়ে দিয়ে বেসরকারি সংস্থার ব্যবসার বাড়বাড়ন্তের ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে, তেমনই বেঙ্গল কেমিক্যালের মতো লাভজনক এবং গৌরবজনক সংস্থাকে বেচে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এই উদ্যোগের আমরা তীব্র নিন্দা করছি৷

কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে আইএনটিটিইউসির সভানেত্রী দোলা সেনের প্রশ্ন, বেঙ্গল কেমিক্যাল গত আর্থিক বছরে ১২৫ কোটি টাকার ‘টার্ন ওভার’ করেছে। এর মধ্যে লাভ হল ২৫ কোটি। তারপরও এটিকে রুগ্ন সংস্থা বলে বেচে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে কেন? তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি করে দেওয়া অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। সমাবেশের জমায়েতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, তৃণমূল বাঁচবে কি বাঁচবে না, সেই প্রশ্ন এখন পরের কথা। এখন আপনারা বাঁচবেন কীভাবে, খেতে পাবেন কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। তাই শহরে-গ্রামে জনমত গড়ে তুলে কেন্দ্রের এসব সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শামিল হন৷

অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কর্পোরেটাইজেশনের প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন, “দেশের অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিগুলি ও অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি বোর্ডের কর্পোরেটাইজেশনের লক্ষ্যে সরকার এগোচ্ছে বলে রিপোর্ট পেয়েছি। বোঝা যাচ্ছে যে এর স্পষ্ট উদ্দেশ্য হল জাতীয় সম্পদের বেসরকারিকরণ করে দেওয়া। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এই উদ্যোগ এখনই বন্ধ করা উচিত।” তাঁর কথায়, “শিল্পনীতি সরল করে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য সুবিধা করে দেওয়া যেমন দরকার, তেমনই কতকগুলি কৌশলগত বিষয়ে জাতীয় স্বার্থে সরকারকেই অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। সে কথা মাথায় রেখে যেন সিদ্ধান্ত বিবেচনা করে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।”

বেঙ্গল কেমিক্যালের বিলগ্নিকরণ প্রস্তাবে আপত্তি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্যও। চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন, ১৯০১ সালে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় এই প্রতিষ্ঠানের পত্তন করেছিলেন। দেখতে গেলে এটিই দেশের প্রথম ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি। তাঁর কথায়, এটা ঠিক যে এখন সময় বেঙ্গল কেমিক্যাল রুগ্ণ হয়ে পড়েছিল।