মথুরাপুর: বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের মুখে এই ঘটনার কারণে প্রচারের শেষ লগ্নে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে বিদ্যাসাগর কলেজের হিংসার ঘটনা।

চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার কলকাতায় অমিত শাহ রোড শো করেন। সেই শোভাযাত্রা ঘিরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে কলকাতায় বিধান সরনী এবং কলেজ স্ট্রিট এলাকা। তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পরে। বিদ্যাসাগর কলেজের মধ্যে থাকা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙে ফেলে হয়।

এই মুর্তি ভাঙা নিয়ে শুরু হেয়ছে নতুন বিতর্ক। তৃণমূল এবং বিজেপি দুই পক্ষই পরস্পরকে দোষারোপ করছে। নিজেদের দাবির স্বপক্ষে সাংবাদিক সম্মেলন করে প্রমাণও পেশ করা হয়েছে দুই দলের পক্ষ থেকে। দুই পক্ষেরই জোরাল দাবি নিয়ে বিতর্ক আরও বেড়েছে।

যে মূর্তিটি ভাঙা হয়েছে সেই জায়গাটি সিসিটিভি নজরদারির অধীনে থাকলেও হামলার কোনও ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিদ্যাসাগর কলেজের বাইরের বিভিন্ন হামলার ভিদিও দেখানো হলেও ভিতরে যেখানে মূর্তিটি ছিল সেই স্থানের কোনও ফুটেজ দেখায়নি। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে ওই স্থানের সিসিটিভি গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে খারাপ হয়ে পরে রয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রধান মুখ নরেন্দ্র মোদী। সারদা এবং নারদ কাণ্ডের মতো এই ঘটনার প্রমাণ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার নষ্ট করে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙার জন্য তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলে মোদী বলেছেন, “তৃণমূলের গুণ্ডারা হিংসা ছড়াল, ওরাই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, “ওই জায়গায় সিসিটিভি বসান ছিল। যে উপায়ে তৃণমূল সরকার সারদা-নারদের প্রমাণ নষ্ট করেছিল, সেই ভাবেই এই ঘটনার প্রমাণও নষ্ট করে দেওয়া চেষ্টা চলছে।” এই ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

নির্বাচনী প্রচারের অন্তিম দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার মথুরাপুরে হাজির ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা নিয়ে তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। এদিন উত্তরপ্রদেশের একটি সভা থেকেও ঘাস ফুল শিবিরকে আক্রমণ করেছিলেন মমতা। যথাস্থানে বিদ্যাসাগরের মূর্তি পুণঃপ্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি।

অন্যদিকে মোদীর সভার আগে এদিনই মথুরাপুরে সভা করেন মমতা। সেই জনসভা থেকেই প্রকাশ্যে নরেন্দ্র মোদীকে আক্রমণ করেন তিনি। মূর্তি ভাঙা এবং গড়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি বলেন, “উনি(প্রধানমন্ত্রী) বলছেন ফের মূর্তি গড়ে দেবেন। বাংলার মূর্তি গড়ার টাকা আছে। উনি কী ২০০ বছরের ঐতহ্য ফিরিয়ে দিতে পারবেন?” চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই ২০০ বছরে পা দেবেন বিদ্যাসাগর মহাশয়।