স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: একুশে জুলাই তৃণমূলের শহিদ সমাবেশের মঞ্চে ‘বিশেষ গুরুত্ব’ পেল দার্জিলিং ও জঙ্গলমহল। এই দুটি জায়গার প্রতিনিধিদের বক্তব্য দিয়েই শুরু হল একুশের ভাষণ পর্ব। লোকসভা ভোটে পাহাড়-জঙ্গলে ধাক্কা খেয়েই তৃণমূল তাদের আলাদা গুরুত্ব দিল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

এদিন সঙ্গীত পর্ব শেষ হওয়ার পর বক্তা হিসাবে নাম ঘোষণা করা হয় ঝাড়গ্রামের বিধায়ক সুকুমার হাঁসদার। আনুষ্ঠানিক ভাবে তিনিই ছিলেন প্রথম বক্তা। বাংলা ও আদিবাসী ভাষায় তিনি বলেন, “জঙ্গলমহলে উন্নয়ন হয়েছে। মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামীদিনে জঙ্গলমহলের আরও উন্নয়ন করবেন”

এদিন প্রায় ৬ মিনিট বক্তব্য রাখেন প্রাক্তন এই মন্ত্রী। এরপর বলতে ওঠেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং। তিনি নেপালী ও বাংলায় বক্তব্য রাখেন। তাঁর বক্তব্যেও উঠে এসেছে মুখ্যমন্ত্রী পাহাড়ের উন্নয়নের ব্যাপারে কতটা আন্তরিক। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার কিছুদিন পর থেকেই শাসক দলের বিজ্ঞাপন ছিল, ‘হাসছে পাহাড়’ ও ‘শান্তিতে জঙ্গলমহল’। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে বড় বড় হোর্ডিং জুড়ে তা ফলাও করা থাকত। তবে মুখ্যমন্ত্রীও প্রশাসনিক বৈঠক করতে এই দুটি জায়গায় একাধিকবার ছুটে গিয়েছেন। সরকারি সুযোগ সুবিধাও ঢেলে দিয়েছেন।

কিন্তু তারপরও লোকসভা ভোটে তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়েছে পাহাড়-জঙ্গল। দু জায়গা থেকেই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে ঘাসফুল শিবির। একটিও আসন জোটেনি তৃণমূলের কপালে। উত্তরবঙ্গে দার্জিলিং থেকে মালদহ একটিও আসন পায়নি। তৃণমূলের এই দুটি গর্বের জায়গাতেই বিজেপির জয়জয়কার হয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমল জঙ্গলমহল ও উত্তরবঙ্গের ক্ষত মেরামতের চেষ্টা করবে তার বলার অপেক্ষা রাখে না।

যার প্রথম পদক্ষেপ একুশের মঞ্চ থেকেই শুরু হল বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন মঞ্চে আরও এক বক্তার উপস্থিতি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। তিনি হলেন কেশপুরের বিধায়ক শিউলি সাহা। মুকুল রায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবেই তিনি তৃণমূলে পরিচিত ছিলেন। অধিকারী পরিবারের বিরুদ্ধগোষ্ঠী শিউলি সাহার একুশের মঞ্চে ৫ মিনিট বক্তব্য রাখার সময়সীমা দেখেও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।