সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: বিজেপিকে বাংলায় আবারও স্বাগত জানাচ্ছে তৃণমূল। বরণ মালা হিসাবে থাকছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্লেক্স৷ যার নিচে লেখা ‘লহ প্রণাম’৷ সঙ্গে ঘাসফুলের পতাকা। বাংলায় শাসক দলের এমন বিজেপি বরণ কর্মসূচির দেখা মিলছে মেয়ো রোডে গেলেই।

১১ অগস্ট মেয়ো রোডে সভা করবে বিজেপি। উপস্থিত থাকবেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ, ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার সর্বভারতীয় সভাপতি পুনম মহাজন-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যস্তরের একাধিক নেতা৷

আরও পড়ুন: মুসলিম বাইক আরোহীদের মাথা থেকে ‘টুপি’ সরাল পড়ুয়ারা

উদ্দেশ্য ২০১৯ এর আগে বাংলায় বিজেপির ভিত শক্ত করা এবং এনআরসি ইস্যু তাদের অবস্থান বাংলার মানুষের কাছে স্পষ্ট করা। মেদিনীপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার ম্যাস্যাকার কাণ্ডের পর কলকাতায় এই সভাকে সামনে রেখে নিজেদের ভাবমূর্তি ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে বঙ্গ বিজেপি।

বিজেপিকে একপ্রকার চাপে রাখতে সেখানে বসে গিয়েছে তৃণমূলের পতাকা। যা পুরুলিয়া এবং মেদিনীপুরের বিজেপি সভার পুনরাবৃত্তি।

আরও পড়ুন: এবার রিচার্জ করুন মাত্র ৯ টাকায়

পুরুলিয়ায় পর পর বিজেপির দুই দলীয় কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। পদ্মের অভিযোগ ছিল ঘাসফুলের দিকে। তারই প্রতিবাদ সভাতে উপস্থিত ছিলেন অমিত শাহ। শাহকে স্বাগত জানাতে পুরুলিয়ায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে দলীয় পতাকা বসিয়েছিল তৃণমূল। মেদিনীপুরে নরেন্দ্র মোদীর সভাতে ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।

মেয়ো রোডও দেখা মিলছে একই চিত্রের। সার বেঁধে রয়েছে তৃণমূলের পতাকা। বানানো হয়েছে প্যান্ডেল। দেখে মনে হবে যেন সভা রয়েছে তৃণমূলেরই।

আরও পড়ুন: বিজেপিকে ভারত ছাড়া করতে পথে নামল মমতার দল

এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, ‘‘এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তাই আমি কিছু বলব না।’’ বিজেপির রাজ্য নেতা রীতেশ তিওয়ারি বলেন, ‘‘তৃণমূল রাজ্যে ডিক্টেটরশিপের রাজনীতি করছে। অন্য কোনও দল যাতে এখানে ঠিকভাবে রাজনৈতিক কাজকর্ম না করতে পারে তাই এই প্রচেষ্টা৷’’

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওরা এই নোংরা রাজনীতি করে পার পাবে না। আমরা এই কাজের তীব্র নিন্দা করি।’’ বিজেপির মেয়ো রোডের এই সভাকে ঘিরে প্রথম থেকেই রাজ্য ও কেন্দ্রে শাসক দলের দ্বন্দ্ব চলছে। প্রথমে সভা করার অনুমতি মেলেনি বিজেপি যুব নেতৃত্ব পুলিশের সঙ্গে আলোচনায় বসে। এরপরে অবশ্য পুলিশ সভার অনুমোদন দিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: গ্রামের মুসলিম নামে ছড়াছিল বিভ্রান্তি, তাই বদলে গেল নাম