ফাইল ছবি

শংকর দাস, বালুরঘাট: রাজ্যে মমতা বন্দোপাধ্যায়। জেলায় মেজদা ও শহরে প্রসূনদা। সুতরাং এবারেও জয় নিশ্চিত। আর তা নিশ্চিত বলেই ভোট গণনা তো দূর ভোট দানের আগেই বিজয় মিছিলের ট্রেলার সেরে রাখলেন এলাকার বাসিন্দারা।

শুক্রবার দক্ষিণ দিনাজপুরের মহকুমা শহর গঙ্গারামপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তথা সাংসদ অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে বের হয়েছিল মিছিল। যে মিছিলে গঙ্গারামপুর পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও আশপাশের এলাকার প্রায় দশ হাজার কর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষ পা মিলিয়েছেন। তাঁদের একটাই স্লোগান এবারেও বালুরঘাট আসনে তৃণমূল প্রতীকেই সব ভোট।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নির্দেশানুসারে বাংলার ৪২টি আসনের ৪২টিতেই তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী করতে গঙ্গারামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র ওরফে প্রসূনদার নেতৃত্বে বের হয় আগাম বিজয় মিছিল। রীতিমত যা পথচারী ও রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী সাধারণকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। এদিন বিকেল পাঁচটা নাগাদ শহরের নিউমার্কেট এলাকা থেকে শুরু হয় অর্পিতা ঘোষের সমর্থনে মিছিল। এলাকার অধিকাংশ ওয়ার্ড পরিক্রমা করে সেই মিছিল ফের নিউমার্কেটের এসে শেষ হয়েছে।

শুরু থেকে শেষ অবধি যে মিছিল লম্বায় প্রায় ছিল ১০ থেকে ১১ কিলোমিটার। মূলত তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে ভোটের দাবিতে মিছিলের ডাক দেওয়া হলেও। মিছিল শুরুর পর তা বিজয় মিছিলে পরিণত হয়েছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারী দলীয় কর্মী সমর্থকদের উৎসাহ উদ্দীপনায় তা একপ্রকার বিজয় মিছিলের মহড়ায় পরিণত হয়েছিল।

স্থানীয় ইন্দ্রনারায়ণপুর কলোনির শচীন্দ্র নাথ বসাক জানিয়েছেন যে যে তাঁরা সবার উপরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দক্ষিণ দিনাজপুরে শুধুমাত্র এলাকার বাসিন্দা তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও অবিভাবক বিপ্ল মিত্র ও গঙ্গারামপুরের পুরপিতা প্রশান্ত মিত্র ছাড়া আর কাউকে চেনেন না। কারণ যথাক্রমে দিদি মেজদা ও প্রসূনদা এই তিনজনের প্রচেষ্টাতেই গঙ্গারামপুর তার অভাগা নামক কলংক মুছে ফেলে আধুনিক শহরের পথে এগিয়ে যেতে পারছে।

এদিনের মিছিলের আয়োজক স্থানীয় পুরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র নিজেও এদিন জানিয়েছেন যে এরাজ্যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়নের যে কর্মযজ্ঞ চলছে তা অন্যান্যরা কেউ না মানলেও গঙ্গারামপুরের মানুষ নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন।

একটা সময় পুনর্ভবার তীরের এই শহরকে সবাই অভাগার শহর বলেই জানতেন। কিন্তু ২০১১ সালের পর বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস পুরসভার দায়িত্ব পাওয়ার পর আমূল পাল্টে যায় এখানকার মানুষদের জীবনযাত্রার মান। উন্নয়নের সেই কর্মধারাকে বাসিন্দারা এগিয়ে নিয়ে যেতে এবারেও লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীকেই ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে দাবি করেছেন পুরসভার চেয়ারম্যান।