স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: এ যেন সেলুলয়েডের পর্দা থেকে বিরিয়ে আসা মাস্তান৷ সকলের অগোচরে একটানা তাণ্ডব চালালো৷ সম্পূর্ণ ঘটনায় স্তম্ভিত সোদপুরের মিলনগড় পালপাড়ার মানুষ৷

ওই এলাকারই বাসিন্দা উত্তম দাস৷ পেশায় তিনি হোসিয়ারী ব্যাবসায়ী৷ মঙ্গলবার সকালে উত্তমবাবুর কারখানায় চড়াও হয় দুষ্কৃতীরা৷ তবে এই ঘটনার পেছনে কার হাত রয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়৷

আরও পড়ুন: আহত নেতাকে দেখতে হাসপাতালে বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি

সমাজবিরোধী বলে পরিচিত সুমন দে-র নাম উঠে এসেছে৷ যদিও স্থানীয় কাউন্সিলার সুভাষ চক্রবর্তী সুমন দের পাশেই দাঁড়িয়েছন৷ আর তাতেই অন্য গন্ধ পাচ্ছেন স্থানীয় মানুষরা৷ এদিন উত্তমবাবুর বাড়ির ভিতরে ঢুকে ভাঙচুর চালাবার পাশাপাশি ব্যাবসার কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও কারখানায় আগুন লাগিয়ে দেয় দুষ্কৃতিরা৷ এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়৷

কেন? কি কারণে? সমাজ বিরোধী উত্তমের বাড়িতে চড়াও হল তা এলাকাবাসীর কাছে এখনও পরিষ্কার নয়৷ তবে কেউ কেউ মনে করছেন, পুরনো শত্রুতার জেরে এমন ঘটনা ঘটে থাকেত পারে৷

আরও পড়ুন: শাসকের রোষ এড়াতে কমিশনের অফিসেই মনোনয় জমা দিতে চায় বিজেপি

তবে কে এই আগুন লাগালো তা কেউই দেখতে পায়নি । স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সুমনই এই ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। যদিও সুমন দে এলাকা ছাড়া বলে দাবি করেছেন স্থানীয় তৃনমূল কাউন্সিলর সুভাষ চক্রবর্তী। ওই কাউন্সিলরের আরও বলেন ,‘’সুমন বেড়াতে গিয়েছে বলে জানি। গত রবিবার দলের মিছিলেও ও যোগ দেয়নি। আমাকে বলেছিল বেড়াতে যাবে। এই আগুন কিভাবে লাগলো তা তদন্ত করে দেখা উচিত। নিরপেক্ষ তদন্ত করলে আগুন লাগার সঠিক কারন জানা যাবে।’’

আরও পড়ুন: শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রতিবেশী কিশোরের বিরুদ্ধে

স্থানীয় সূত্রের খবর, সুমন শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতি। সে এলাকায় তোলাবাজি করে, হুমকি দেয় । ওর কথা না শুনলেই হুমকি দেয়৷ উত্তমবাবুও সোমবার রাতে বাড়িতে ছিলেন না। ব্যক্তিগত কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে উত্তম বাবুর স্ত্রী লক্ষ করেন তার বাড়ির পাশের রাস্তায় রাখা মারুতি গাড়িটি দাউদাউ করে জ্বলছে। পাশেই হোসিয়ারি দ্রব্যের কারখানাতেও আগুন লেগেছে। চিৎকার করে তিনি প্রতিবেশীদের জড়ো করলে সকালে ছুটে আসেন৷ তারপর তারা ওই আগুন নেভাতে সাহায্য করেন৷ দমকল আসার আগে প্রতিবেশীরাই আগুন নিভিয়ে দেয়৷

তবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মারুতি গাড়ি ও উত্তম বাবুর হোসিয়ারী কারখানাটি। এলাকাবাসীর একাংশ বলছে ঘটনার সূত্রপাত দোলের দিন৷ রং খেলার সময় সুমনের গোষ্ঠীর সঙ্গে উত্তম দাসের একটা গন্ডগোল হয়েছিল। সেই শত্রুতার জেরেই হয়ত সুমন, উত্তমের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। ঘোলা থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে। যদিও কেউ এখনও গ্রেফতার হয়নি। পাশাপাশি এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলরের কথাতেও সন্দেহের দানা বেঁধেছে৷

আরও পড়ুন: ‘স্ত্রী’র অনিচ্ছায় সহবাস ধর্ষণ নয়, তবে অস্বাভাবিক যৌনতা অপরাধ’