স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: এক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামীর কথা অগ্রাহ্য করায় টোটোর মতো গাড়ির চালককে ব্যাপক মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া শহরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কেন্দুয়াডিহি এলাকায়৷ গুরুতর আহত চালকের নাম আহম্মেদ হোসেন দালাল। এই ঘটনায় অভিযোগের তির এলাকার তৃণমূল কাউন্সিলর পিঙ্কি চক্রবর্তীর স্বামী বাপী চক্রবর্তী ও তার দলের বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, অন্যান্য দিনের মতো বুধবার দুপুরেও কেঠারডাঙ্গার বাসিন্দা আহম্মেদ হোসেন দালাল নামে ওই টোটোর মতো গাড়ির চালক যাত্রী নিয়ে স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় কেন্দুয়াডিহি এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বাপী চক্রবর্তী চালককে দাঁড়াতে বলেন। শহরের রবীন্দ্র ভবনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দিতে বেশ কিছু টোটো তারা এদিন আটক করেছিলেন।

কিন্তু যাত্রী থাকায় ওই চালক তৃণমূল নেতার কথা না শুনে চলে যেতে যাচ্ছিলেন৷ তখন তাকে ধরে এনে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। চড় থাপ্পড়ের পাশাপাশি লাঠি দিয়েও তাকে মারধরের অভিযোগ উঠছে। এই ঘটনায় ওই চালকের একটি হাত ভেঙ্গে যায়। আহত চালককে অন্যান্য টোটো চালকরা উদ্ধার করে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করেন। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন।

বুধবার রাত ১২ টা নাগাদ বাপী চক্রবর্তীর নামে বাঁকুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এর আগেও এই ধরণের ঘটনা অভিযুক্ত বাপী চক্রবর্তী ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ। যদিও বাপী চক্রবর্তী তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার তদন্ত চলছে বলে জানা গিয়েছে।

আহত চালক আহম্মেদ হোসেন দালাল বলেন, ‘আমার গাড়িতে যাত্রী ছিল৷ তাই আমি দাঁড়াতে পারিনি। আমাকে মারধর করা হয়৷ যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে তাদেরও মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর তিনি ভীতসন্ত্রস্ত বলে জানান।’

তৃণমূল জেলা নেতৃত্বের এই বিষয়ে কোন প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যায়নি৷ শাসক দল সমর্থিত শ্রমিক সংগঠনের নেতা আকবর দালাল বলেন, ‘ওনারা ১৫ টা গাড়ি চেয়েছিলেন। দশটা দেওয়া হয়েছিল। ওই চালক স্টেশনে কয়েক জন যাত্রীকে নিয়ে যাচ্ছিলেন৷ সেই সময় পথে তাকে ধরে এনে মারধর করা হয়। এই ঘটনায় তিনিও সরাসারি কাউন্সিলের স্বামী তৃণমূল নেতা বাপী চক্রবর্তীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ তোলেন।’

যদিও ওই কাউন্সিলরের স্বামী বাপি চক্রবর্তী তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি এই ধরণের কোন ঘটনা ঘটনা ঘটেনি দাবি করেছেন৷ তিনি বলেন, ‘একটা দুর্ঘটনার খবর শুনেছিলাম। তাতে কয়েকজন আহতও হয়েছিলেন। মারধরের অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করেছেন৷ তিনি বলেন সেই সময় আমরা মিছিলে হাঁটছিলাম। অভিযোগ যে কেউ করতেই পারেন।’