সৌমেন শীল, বারাকপুর: বিধায়কের মৃত্যু হয়েছে শুক্রবার ভোরে। শনিবার সকালেই পরবর্তী প্রার্থী নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের অন্দরে।

জীবনযুদ্ধে থমকে গেলেন রাজনীতিতে অপরাজেয় মধুসূদন ঘোষ

বারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক মধুসূদন ঘোষ প্রয়াত হয়েছেন শুক্রবার। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নয়াপাড়া কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন জোট প্রার্থী মধুসূদন বাবু। রাজ্য জুড়ে এবং সমগ্র বারাকপুর এলাকায় তৃণমূলের ভরা বাজারেও জিতেছিলেন কংগ্রেস প্রার্থী।

২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে তৈরি হয়েছিল জল্পনা। একইসঙ্গে জটের জোট নিয়েও উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। বামেরা নিজেদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করার সময় ফাঁকা রেখেছিলেন বারাকপুর লোকসভার অন্তর্গত নোয়াপড়া কেন্দ্রটি। ২০০৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সিপিএম জিতলেও ওই কেন্দ্রটি আগে তৃণমূলের দখলেই ছিল। ২০১১ সালে ৪১হাজারেরও বেশি ভোটে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী মঞ্জু বসু। ২০১৬ সালে তাঁকেই ১০৯৫ ভোটে পরাস্ত করেছেন কংগ্রেস প্রার্থী মধুসূদনবাবু। দীর্ঘদিনের কাউন্সিলর, দুর্নীতি থেকে শত হস্ত দূরে থাকা এবং সর্বোপরি সব নির্বাচনে জয়ের রেকর্ড। এই সকল গুণাবলীর কারণেই জিতেছিলেন নবাবগঞ্জের মধু ঘোষ। এমনই দাবি করেন স্থানীয় কংগ্রেস এবং বাম নেতারা।

মঞ্জু বসু এবং সনীল সিং

বিধায়ক প্রয়াত হতেই পরবর্তী বিধায়ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে নোয়াপাড়ার বিভিন্ন এলাকায়। উপনির্বাচনে জয় আসছেই ধরে নিয়েছে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। কিন্তু, প্রশ্ন হল প্রার্থী কে হবে? মূল নির্বাচনে ঘাসফুল প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন মঞ্জু বসু। ২০০১ এবং ২০১১ সালে তিনি ওই কেন্দ্র থেকেই জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনিই নোয়াপাড়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন। বিধায়ক হিসেবে অভিজ্ঞতা থাকার কারণে কিছুটা হলেও তার দিকেই পাল্লা ভারি। কিন্তু, তালিকায় রয়েছেন এলাকার আরও দুই প্রভাবশালী নেতা। একজন উত্তর বারাকপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মলয় ঘোষ। অপরজন গারুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল সিং। এই সুনীল সিং আবার ভাটপাড়ার বিধায়ক তথা পুরপ্রধান অর্জুন সিং-এর আত্মীয়। বারাকপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় অর্জুন বাবুর প্রভাবের কথা কারোরই অজানা নয়। সেদিক থেকে দেখলে সুনীল সিং-এর পাল্লা ভারি।

এই সকল তত্ত্ব ঘিরেই শুরু হয়েছে জল্পনা। প্রার্থী যেই হোক, পছন্দ না হলে বিরুদ্ধ গোষ্ঠী দলীয় প্রার্থীকেই হারাতে উঠেপড়ে লাগবে। বাম-কংগ্রেস নেতারা মধুসূদন ঘোষের জয়ের জন্য যেই তত্ত্বই দেখাক না কেন আসলে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের কারণেই হেরেছিলেন মঞ্জু বসু। এমনই দাবি মঞ্জু বসুর অনুগামীদের। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরাও এই তত্ত্বকেই মান্যতা দিয়ে থাকেন। যদিও আগামী উপনির্বাচনে কে প্রার্থী হচ্ছেন তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ সকলেই। প্রার্থীর বিষয়ে সকলেরই জবাব, ‘প্রার্থী দল ঠিক করবে। দলের সিদ্ধান্তই মেনে চলা হবে।’

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ