স্টাফ রিপোর্টার, জলপাইগুড়ি: লোকসভা আসনে দ্বিতীয়বারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রাথী মনোনীত হয়ে কোচবিহার জেলার হলদিবাড়িতে এসে তৃণমূল কংগ্রেস দলের ব্লক ও অঞ্চল নেতৃত্বের সাথে আলোচনা করতে হলদিবাড়িতে এসে সভা করলেন জলপাইগুড়ির বিজয় চন্দ্র বর্মন।

প্রথমেই তিনি হলদিবাড়ি তে এসে বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধানের সাথে তার কার্যালয়ে আলোচনা করেন।সেখানে অঞ্চল নেতৃত্বেদের সাথেও মত বিনিময় করেন। পরে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয়েও বিধায়ককে নিয়ে বিভিন্ন শাখা সংগঠন এর নেতৃত্বের সঙ্গে ভোটের রণকৌশল নিয়ে গভীর আলোচনায় বসেন। কর্মীদের সাথে আলোচনায় বিধায়ক অর্ঘ্য রায় প্রধান ও সাংসদ বিজয় চন্দ্র বর্মন সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এরপরে ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা বিধায়ক দক্ষিণ বড় হলদিবাড়ি ও পার মেকলিগঞ্জ অঞ্চলে বর্ধিত ভাবে অঞ্চল এর কর্মীদের সঙ্গেও আসন্ন লোকসভা ভোট নিয়ে আলোচনা করেন।এখানে উল্লেখ থাকে যে হলদিবাড়ি ব্লকে ছয়টি অঞ্চল সহ পঞ্চায়েত সমিতি তৃণমূল কংগ্রেস এর দখলে। তাই হলদিবাড়ি ব্লক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রাথী কতটা অন্যান্য দলের প্রাথীদের থেকে এগিয়ে থাকতে পারে তাই দেখার।

ব্লক জুড়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলে আসন্ন লোকসভা ভোট নিয়ে একটি বিষয় সুস্পষ্ট করে বলা যায় কংগ্রেস ও সিপিআইএম এর জোটকে নিচু তলার কর্মীরা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। শেষ পর্যন্ত জোট যাই হোক ফরওয়ার্ড ব্লক দল আলাদা প্রাথী দিতে পারে জলপাইগুড়ি লোকসভা আসনে। তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোনো দলের প্রাথীর নাম ঘোষণা না হওয়ায় ভোট নিয়ে শেষ কথা বলার এখনো সময় হয়নি।

কিন্তু একটি বিষয় জোরের সাথে বলা যায় সিপিআইএম এর প্রাক্তন ও বর্তমান কর্মীরা হলদিবাড়ি ব্লকে বিজেপি প্রাথীকে ভোট দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য। তাদের চিন্তা ভাবনা সেই রকম। হলদিবাড়ি র সাধারণ মানুষের সাংসদ বিজয় চন্দ্র বর্মন নিয়ে গুরুতর কোনো অভিযোগ না থাকলেও একটি অনুযোগ তিনি বিগত পাঁচ বছরে হলদিবাড়িতে খুব কম অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। হলদিবাড়ি শহরে পৌরসভায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল জাতীয় কংগ্রেস। পরবর্তীতে দলবদল এ ক্ষমতা দখল করে তৃণমূল কংগ্রেস। শহরের সেই সমস্ত কংগ্রেস কর্মীদের ভোট যে দল পাবে পৌর এলাকায় সেই দল এগিয়ে থাকবে।

অপরদিকে মুকুল রায় এর নেতৃত্বে দল ভাঙানোর খেলায় বিজেপি দলের কি লাভ হবে সেই নিয়ে সন্দিহান হলদিবাড়ির রাজনৈতিক সচেতন মানুষ সহ খোদ বিজেপি কর্মীরাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপি কর্মীদের প্রশ্ন ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও তৃণমূল কর্মীরাই ক্ষমতায় থাকবে তাহলে কিসের পরিবর্তন।

সব মিলিয়ে আলোচনায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি। ২৩সে মে ফল ঘোষণার আগে যে বিষয়ে চূড়ান্ত কথা বলা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়।পাশাপাশি হলদিবাড়ি র সাধারণ মানুষ চান নির্বিঘ্নে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট হোক।