সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: দিদি-মোদী বিরোধ ভুলে ওরা নামলেন বিপর্যয় সামলাতে। দুজনের রাজনৈতিক মতাদর্শ সম্পূর্ণ ভিন্ন। একজন তৃণমূল নেতা, অপরজন গেরুয়া ভক্ত। রাজ্যজুড়ে যখন চারদিকে রাজনৈতিক বিরোধিতার সুর, তখন ওরা মানুষের স্বার্থে কাজে নামলেন। বিদ্যুৎ এল মাকড়দহের একটি অঞ্চলে।

হাওড়া মাকড়দহ পাড়ুই পাড়া ছোট ষষ্টিতলাতে সুপার সাইক্লোনের প্রবল ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিদ্যুৎ পরিষেবা অনির্দিষ্ট দিনের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলা হয়েছিল। একে ঝড়ের ভয়াবহতা, তার উপরে গরমে বিদ্যুৎহীনতা বড় সমস্যায় ফেলেছিল এলাকার বয়স্ক ও শিশুদের। মানুষের গরমে বেহাল অবস্থার কথা চিন্তা করে এলাকার সমাজসেবী যুবক বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায়, অমিও পাড়ুই, অনিমেষ ভট্টাচার্য, উত্তম দাস, শুকদেব ঘোষাল, সৌরভ পাড়ুই, সঞ্জিত কোটাল সহ আরো অনেকে সমস্যার হাল করতে পথে নেমে পড়েন।

হাওড়া জেলা মেন্টর কল্যান ঘোষ ও বনঃ মন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জির কাছের মানুষ ডোমজুড় পাড়ুই পাড়ার তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ মুখার্জী এই পুরো কাজে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তাঁর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহযোগিতা করেন ভারতীয় জনতা পার্টির স্থানীয় নেতা উত্তম দাস, যিনি বিজেপি যুবমোর্চা সভাপতি দেবজিৎ সরকারের স্নেহধন্য বলে পরিচিত। রাত জেগে গ্ৰামের অন্যান্য যুবকদের নিয়ে ইলেকট্রিক লাইন থেকে পড়ে যাওয়া গাছ সরান। তারপর সলপ ও কাটলিয়া আফিস থেকে ইলেকট্রিক কর্মিদের সহযোগিতায় খুব তাড়াতাড়ি ডোমজুড় পাড়ুই পাড়ার ইলেকট্রিক লাইন আবার স্বাভাবিক জায়গায় ফিরিয়ে আনেন।

টানা দুই দিন পাওয়ার কাটের পর এলাকায় ঘরে ঘরে ইলেকট্রিক আবার আগের মত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনেন এই দুই যুবক ও তাঁদের সহকর্মীরা। এলাকায় এখন ফিরেছে স্বস্তি।

বিশ্বজিৎ ও উত্তম দুজনেই জানান , ‘এটা মানুষের স্বার্থ। আমরা দুই ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের হতেই পারি। যেভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের জন্য রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে এই বিপদে হাতে হাত মিলিয়ে আমফানের মোকাবিলা করছেন তেমনই আমরা তাদের পথ অনুসরণ করে হাতে হাত মিলিয়ে গ্ৰামের মানুষদের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েছি। এখানে এখন কোন রাজনৈতিক রঙ নেই, মানুষের সেবাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সমস্ত গ্রামবাসীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা এবং কাটলিয়া ও সলপ ইলেকট্রিক সাপ্লাই ফিল্ড কর্মীদের সহযোগিতা ছাড়া এই অসম্ভব কাজ সম্ভব ছিল না এত শীঘ্র।’

দুজনেরই বিশেষ আর্জি, ‘ইলেকট্রিক কর্মীরা আমাদের মতো মানুষ, তাদের ওপর চরাও না হয়ে সবাই যেন তাদের সহযোগিতা করেন। আমরা এই আশা রাখি। আমরা সমস্ত শুভাকাঙ্ক্ষী গ্রামবাসী, ইলেকট্রিক কর্মী রাজা , নাসির ও ওনাদের পুরো দলের কাছে কৃতজ্ঞ। ওনারা এত বাধা উপেক্ষা করে আমাদের সাথে সহযোগিতা করে আমাদের এলাকার ইলেকট্রিক ফিরিয়ে এত তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে এনেছেন যেখানে অনেক জায়গা এখনও অন্ধকারে আছে । আমরা এও কামনা করি সব এলাকাতেই যেন ইলেকট্রিক ফিরে আসে খুব শীঘ্রই ও পবিত্র ঈদ যেন খুব ভালো ভাবে কাটে।’

মাকড়দহ পাড়ুই পাড়া ছোটষষ্টীতলা গ্রামবাসী দফায় দফায় মাকড়দহ লাঙ্গল পাড়া ও বেনেরজোল বাসীর সাথে বচসায় ও বাধার মুখে জড়িয়ে পরে ইলেকট্রিক লাইনের সমস্যা সমাধানের সময়। তবে এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হয় নি বিশ্বজিৎ মুখোপাধ্যায় , উত্তম দাস, অমিও পাড়ুই , বাবলু দাস, সঞ্জিত কোটাল , চিরঞ্জিত পাড়ুই ও তন্ময় দাস প্রভৃতি ব্যক্তি দের বুদ্ধিদীপ্ত পদক্ষেপের জন্য। তাদের বুদ্ধিমত্তা ও অকাট্য যুক্তির কাছে সমস্ত বাধা কেটে যায় ও অবশেষে মাকড়দহ পাড়ুই পাড়া ছোট ষষ্টীতলার মানুষ ঘরে ঘরে ইলেকট্রিক ফিরে পান। তারা একে অপরকে আলিঙ্গন করে এই আনন্দ কে ভাগ করে নেন।

উল্লেখ্য প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি শ্রদ্ধেয় প্রণব মুখার্জী মহাশয় ডোমজুড় ২৬ শে পৌষ কালী মন্দিরে আগমনের সময় এই ইলেকট্রিক লাইনের পথ পরিবর্তন হয় তাতে সকল গ্রামবাসী বিশেষ ভাবে উপকৃত হন। এদিকে ঘূর্ণিঝড় সরে যাওয়ার ৪৮ ঘণ্টা পরেও অন্ধকারে ডুবে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুক্রবার বিদ্যুতের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন সিইএসসি-র প্রধান কর্তা সঞ্জীব গোয়েন্‌কার সঙ্গে। বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও সকালে বণ্টন সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার পরে সিইএসসি-র কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। রাজ্যের মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ কলকাতার সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি জানতে ডেকে পাঠান সিইএসসি কর্তাদের। আজ শনিবার, ফের সংস্থাটির কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবে প্রশাসন। বিদ্যুৎমন্ত্রীর দাবি, দ্রুত কলকাতার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশ্ন অনেক: দ্বিতীয় পর্ব