সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: রাজনৈতিক রং লাগছে এনআরএসে জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনে মূল উৎস পরিবহের পরিবারকে নিয়েও। শুরু হয়ে গিয়েছে তৃণমূল – বিজেপি তরজা। কে দেখা করবেন, পরিবহের পরিবারকে কে বেশি সহানুভূতি দেখাতে পারবেন, তা নিয়েই কার্যত হিড়িক পড়ে গিয়েছে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা নেত্রী এবং বিজেপির যুব মোর্চার মধ্যে।

১৪ জুন তারিখের ঘটনা। এনআরএসে আক্রান্ত ডাক্তার পরিবহ মুখোপাধ্যায়ের হাওড়া ডোমজুড়ের বাড়িতে দেখা করতে যান বিজেপি রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতি দেবজিৎ সরকার, জেলা যুব মোর্চার সভাপতি ওমপ্রকাশ সিং, মন্ডল সভাপতি শোভন নস্কর ও মন্ডল সম্পাদক সৈকত দেব সহ আরও অনেকে।

এখানেই ঘটনার সূত্রপাত। বিজেপি যুব মোর্চার অভিযোগ, তাদের কাউকেই পরিবহের বাড়িতে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না। অভিযোগ ছিল, ওই এলাকার তৃনমূল সদস্যা ও তার স্বামী পরিবহর বাবা মা’য়ের ঘরের ছিটকিনি বন্ধ করে দেন জোর করে। দেবজিৎ সরকার বলেন, “আমরা ওর বাড়িতে আসতে গিয়ে বাধা পেয়েছি। ওর মা-বাবা এখন কথা বলার মতো জায়গায় নেই। কিন্তু এলাকায় আমার সাড়ে ৫ লক্ষ ভোট রয়েছে। তাই এলাকার জনপ্রিতিনিধি হিসাবে আমি দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখলম সব কিছু নিয়েই এখন রাজনীতিকরণ হচ্ছে। ওর জেঠু, পরিবারের অভিভাবক হিসাবে আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ওনাদেরকে বলেছি যে রাজনৈতিকভাবে নয় সাধারণ মানুষ হিসেবে যদি কোনও সাহায্য লাগে তাহলে আমি ওদের পাশে আছি।”

অন্যদিকে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা ও তার স্বামীর ফাল্গুনী এবং চিত্তপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁরা নয় বরং বিজেপিই বিষয়টিকে নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করেছে। তাঁতা বলেন, ”ওরা ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছে। তাই আমরা প্রতিরোধ করেছিলাম।” পরিবহর পরিবারের বাড়ি গিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক রাজীব বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “আমি তো গিয়েছিলাম , আমার সঙ্গে কথা তো হল। দেখাও করে এসেছি। আর আমাদের দলের কোনও লোক কাউকে পরিবহর বাড়িতে যেতে বাধা দিয়েছে বলে আমার কাছে কোনও খবর নেই। এরকম হয়েছে বলেও আমার জানা নেই।”

পরিবহ’র পরিবার

সোমবার রাতে নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেখানকার জুনিয়র চিকিৎসকদের উপরে নিগ্রহের ঘটনার সময় গুরুতর জখম হন পরিবহ মুখোপাধ্যায়। তাঁর কপালের ডান দিকে পাথরের ঘায়ে বড়সড় ক্ষতের সৃষ্টি হয়। সে রাতেই পরিবহকে ভরতি করা হয় মল্লিকবাজারের ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস-এ।

চিকিৎসকেরা জানান, পরিবহর মাথার সিটি স্ক্যান থেকে দেখা গিয়েছিল প্রচণ্ড জোরে আঘাত লাগায় তাঁর কপালের উপরে করোটির সামনের একটা অংশ তুবড়ে ভিতরে ঢুকে গিয়েছে। চিকিৎসা পরিভাষায় এই ধরনের চোটকে ‘কমপাউন্ড ডিপ্রেস্ড ফ্র্যাকচার অব স্কাল’ বলা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে পরিবহর অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁকে আইটিইউ-তে রাখা হয়। শনিবার রাতে এনআরএসে আন্দোলনরত চিকিৎসকেরাও সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করেন, ‘‘পরিবহ হয়তো আর কখনও সার্জন হতে পারবেন না। ১৭ জুন, সোমবার ‘ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস’ কর্তৃপক্ষ জানায়, তেমন কোনও ঝুঁকি তাঁরা দেখছেন না। সেখানকার মেডিক্যাল সুপার প্রসেনজিৎ বর্ধন রায় জানিয়েছেন, “পরিবহ ভালই রয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবে কথা বলছেন। সাঁতার কাটতে বা সার্জন হতে তাঁর সমস্যা হওয়ার কথা নয়।”