তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়পত্র তোলা ও জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যের সর্বত্র বিভিন্ন ধরনের হিংসার ঘটনা সামনে উঠে আসছে৷ তবে কয়েক বছর আগে খবরের শিরনামে থাকা জঙ্গলমহলের অন্যতম ব্লক সারেঙ্গা এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে নতুন নজির সৃষ্টি করেছে৷

আরও পড়ুন: LIVE: রণক্ষেত্র বাংলার পঞ্চায়েত!

শাসক দল তৃণমূল সহ বিরোধীদলের নেতারা একযোগে বলছেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করার অধিকার সকলের আছে৷ তাই এখানে অস্ত্রের ঝনঝনানি নেই৷ শাসক দলের বিরুদ্ধে বিরোধীদের নেই পেশী শক্তি প্রদর্শনের অভিযোগও। জঙ্গলমহলের এই ছবি আগামীদিনে পথ দেখাবে বলে মনে করছেন জেলার নেতারা৷

প্রসঙ্গত, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত বাঁকুড়ার সারেঙ্গা ছিল মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল৷ এখানকার সাধারণ মানুষের দিন কাটতো আতঙ্কে৷ ‘পরিবর্তনে’র সরকার ক্ষমতায় আসার পর জঙ্গল মহলের ছবিটাই বদলে গেছে৷ শুধু তাই নয়, ঝাড়গ্রামকে জেলা ঘোষনা করার পর ছবিটা আরও অন্য রকম হয়ে গিয়েছ৷ এখন অবশ্য মাওবাদী আতঙ্ক আর রক্তপাতের ঘটনা নজরে আসে না৷ জঙ্গলমহলের মানুষও আর সেই ভয়াবহ দিনগুলি পিছন ফিরে দেখতে চান না। নির্বাচন কমিশনের নির্ঘন্ট অনুযায়ী সারেঙ্গায় নির্বাচন ১ মে৷ আগামী সোমবার পর্যন্ত জমা করা যাবে মনোনয়নপত্র।

আরও পড়ুন: পুলিশের তাড়া খেয়ে লরির তলায় বিজেপি সমর্থকের মৃত্যু

মনোনয়পত্র তোলা ও জমার দিন থেকে শুক্রবার পর্যন্ত সারেঙ্গা ব্লক এলাকায় কোন অশান্তির খবর নেই। শাসক-বিরোধী দুই পক্ষই নির্বিঘ্নে, নিরাপদে আর নিশ্চিন্তে মনোনয়ন পত্র জমা পর্ব সারছেন৷ প্রয়োজনে একে অপরকে সাহায্য আর সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। যেটা বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাবাই যায় না৷

সারেঙ্গা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি ও বিদায়ী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষ কলকাতা ২৪X৭ কে বলেন, মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী, আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ আমরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। ওনার অনুপ্রেরণায় আমরা বিরোধীদের সমস্ত ধরণের সহযোগীতা করছি। সারেঙ্গার মানুষ কোন অশান্তি-বিশৃঙ্খলা চাননা। তাদের সম্মান করি। বিরোধীদেরও গণতন্ত্রের উৎসবে যোগ দেওয়ার অধিকার আছে৷ আমরা তৃণমূল কংগ্রেস উন্নয়নকে সামনে রেখে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছি। সারেঙ্গার বুকে ভোটকে কেন্দ্র করে কোন অপশক্তি যদি অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করে তবে তৃণমূল কংগ্রেস মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করবে৷

আরও পড়ুন: বাঁকুড়ায় মহকুমা শাসকের অফিসে আক্রান্ত বিজেপি

শাসক-বিরোধী এই সুসম্পর্কে খুশি সারেঙ্গার মানুষ। সারেঙ্গা ব্লক অফিস সংলগ্ন এক ব্যবসায়ী বলেন, জঙ্গলমহল শান্তির কথা বলে। হিংসা-দ্বেষ মারামারি চায়না সারেঙ্গা। মনোনয়ন পত্র তোলা ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার মাঝে তৃণমূল-বিজেপি-সিপিএম সবাই চায়ের দোকানে এক সাথে পাশাপাশি বসে খোশমেজাজে চা খাচ্ছেন এমন ছবিও এখানে দুর্লভ নয়৷ যেটা প্রতিদিনের সংঘর্ষের মধ্যে বাকি গোটা রাজ্যে বেশ দুর্লভ৷

সারেঙ্গার বিজেপি নেতা গৌতম পণ্ডাকে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কোন সমস্যা নেই। আমরা তৃণমূলের সঙ্গে একই সাথে একই দিনে ব্লক অফিস থেকে মনোনয়ন পত্র তুলছি, জমা করছি। কোন ধরণের কোন সমস্যা হচ্ছেনা। প্রয়োজনে একে অপরের সাহায্য নিচ্ছি, সাহায্য করছি।

আরও পড়ুন: আক্রান্ত বাসুদেব আচারিয়া

এখনো পর্যন্ত ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের প্রায় পঁয়ত্রিশ মনোনয়ন তারা জমা দিয়েছেন জানিয়ে এই বিজেপি নেতাও স্বীকার করেন, জঙ্গল মহলের এই ছবি বর্তমান সময়ে সারা রাজ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি এই নজির সৃষ্টির পিছনে ব্লক প্রশাসন ও পুলিশের ভূমিকারও ভূয়সী প্রশংসা করেন।সাধারণ মানুষের প্রশ্ন একটাই, সারেঙ্গার মত ছবি রাজ্যের বাকি জেলাগুলিতে কেন হচ্ছে না? সারেঙ্গা বাকি রাজ্যের উদাহরন কেন হবে না?