স্টাফ রিপোর্টার, বারাকপুর: ভাটপাড়া পুরসভা তৃণমূলের দখলে যেতেই নতুন করে উত্তপ্ত হচ্ছে বারাকপুর। বিজেপির দখলে থাকা ১২টি পার্টি অফিস উদ্ধারের টার্গেট নিয়েছে শাসক দল। পাল্টা প্রতিরোধের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে শাসক দল৷ যা ঘিরে অশান্তির আশঙ্কা করছে পুলিশ মহল।

চলতি সপ্তাহেই দু-দুটি পার্টি অফিস উদ্ধার ঘিরে ব্যাপক অশান্তি ছড়ায়৷ মঙ্গলবার রাতেই জগদ্দলের সিন্ধিয়া মোড়ের কাছে একটি পার্টি অফিস পুনর্দখল করতে যায় তৃণমূলের কর্মী সমর্থকরা। সেই সময় উভয় দলের মধ্যে ব্যাপক বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। বুধবার সকালে ঘোষপাড়া রোডে রিলায়েন্স জুটমিলের কাছে পার্টি অফিস দখলদারি ঘিরেও উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক পড়েছিল। অর্জুন সিং সাংসদ হতেই ভাটপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র এলাকার তৃণমূলের মোট ৪০টি পার্টি অফিসের মধ্যে ২৪টি দখল করে নেয় বিজেপি। রাতারাতি পার্টি অফিসের দেওয়ালের রঙ পরিবর্তন ঘটে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবির বদলে অফিসগুলিতে স্থান পায় নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহের ছবি। গত কয়েক মাসে রাজনৈতিক চিত্রটাও পরিবর্তন হয়েছে। ‘ঘর ওয়াপসি’ করেছেন কাউন্সিলররা। দলীয় কর্মী সমর্থকরাও তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। এর জেরে ১২টি পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করে শাসক দল। ৯ জানুয়ারি ভাটপাড়া পুরসভা বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। গত মঙ্গলবার পুরসভায় নতুন চেয়ারম্যান হন অরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পুরসভা পুনরুদ্ধারের পর শাসক দলের নেতা কর্মীরা নতুন করে অক্সিজেন পেয়েছেন, উজ্জীবিত হয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের নেতা কর্মীরা পার্টি অফিসগুলি পুনরুদ্ধারে সচেষ্ট হয়েছেন।

তৃণমূলের ভাটপাড়া বিধানসভা কমিটির আহ্বায়ক সোমনাথ শ্যাম বলেন, মোট ২৪টি পার্টি অফিস ওরা দখল করেছিল। তারমধ্যে ১২টি পুনরুদ্ধার করেছি। বাকিগুলিও আমরা পুনরুদ্ধার করব। কারণ ওই পার্টি অফিসগুলি আমাদের।

বিজেপির বারাকপুর জেলা কমিটির সভানেত্রী ফাল্গুনী পাত্র বলেন, আমরা কারও পার্টি অফিস জোরপূর্বক দখল করিনি। কিন্তু এখন তৃণমূল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পার্টি অফিস দখল করতে আসছে। বোমাবাজি, গুলি চালাচ্ছে। আমাদের কেউ বাধা দিলে পুলিশ ধড়পাকড় চালাচ্ছে। কিন্তু এটা দলের কর্মীরা মেনে নেবেন না। পার্টি অফিস দখল করতে এলে প্রতিরোধ হবেই।