স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: এ যেন এক অহেতুক বিড়ম্বনা। রাম নাম শুনলেই তেড়ে যেতে হবে। উলটো দিকে রামের নাম নেওয়ার আগে দেখতে হবে আশেপাশে কে রয়েছে।

পুরণ বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘ দিন পরে দেখা হওয়ায় ‘জয় শ্রীরাম’ বলে জড়িয়ে ধরেছিলেন এক ব্যক্তি। পালটা একই স্লোগান দিয়ে বন্ধুকে কাছে টেনে নেন অপরজন। আর এতেই ঘটল বিপত্তি। কারণ বন্ধুর সঙ্গে আলিঙ্গনস্থলের পাশেই ছিল তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়।

সোমবার দুপুরে তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে জয় শ্রীরাম সম্বোধনে দুই বন্ধু নিজেদের মধ্যে মিলিত হওয়ার ঘটনায় বিজেপি এবং তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বর্ধমানের হাটগোবিন্দপুর এলাকা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন।

বিজেপির অভিযোগ, এদিন দুপুরে হাটগোবিন্দপুর বাজারে তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনে দুই বিজেপি কর্মীর দেখা হয়। একে অপরকে জয় শ্রীরাম বলে সম্বোধন করেন। তাঁদের অভিযোগ, সেই সময় তৃণমূল পার্টি অফিসে থাকা তৃণমূল সমর্থকরা বেড়িয়ে এসে তাঁদের জয় বাংলা বলার জন্য চাপ দিতে থাকে। তারা তা না করায় তাদের মারতে মারতে তৃণমূল পার্টি অফিসে ঢোকানো হয়। সেখানে গামছায় মুখ ঢেকে বেধড়ক মারধর করা হয়।

এই ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে বিজেপি কর্মীরা। তৃণমূলের হামলার ঘটনায় বিচার চেয়ে তাঁরা বর্ধমান-কালনা রোডে বসে পড়ে। বিজেপির অভিযোগ, রাস্তা অবরোধ করায় ফের তৃণমূল সমর্থকরা বিজেপি সমর্থকদের ওপর চড়াও হয়। ফের তাদের মারধর করা হয়। এরপরই দুপক্ষ ব্যাপক সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে পড়ে।

তৃণমূলের অভিযোগ, এরপরই বিজেপির সমর্থকরা তৃণমূল পার্টি অফিসে ঢুকে বেপরোয়া ভাঙচুরও করে। এদিকে, খবর পেয়ে শক্তিগড় থানা থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে হাজির হয়। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জও করে। ঘটনাস্থল থেকেই পুলিশ ১০জন বিজেপি সমর্থককে আটক করে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে, রবিবার রাতে বৈকুণ্ঠপুর ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জয়দেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে বিজেপির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

জয়দেববাবুর অভিযোগ, রবিবার রাতে তাঁর বাড়িতে ব্যাপক ইঁট ছোঁড়া হয়। ভাঙচুর করা হয় তার জানালা দরজাও। তাঁর অভিযোগ বিজেপিই এই হামলা চালিয়েছে। যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটা তৃণমূলের গোষ্ঠী দ্বন্দ্বের ফল।