তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: বুড়ো শিবের গাজন উৎসবকে কেন্দ্র করে ভোর রাত থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে। এই ঘটনার জেরে ভাঙচুর হল তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। প্রাক্তন মন্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে বিজেপি ও আরএসএস কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

বিষ্ণুপুরের বুড়ো শিবের গাজন উৎসব বহু পুরনো। ফি বছর অসংখ্য মানুষ এই গাজন উৎসবে যোগ দেন। এই গাজনকে কেন্দ্র বুধবার ভোর রাত থেকে শহরের মটুকগঞ্জে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে গাজন সন্ন্যাসীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বেশ কয়েক জন আহত হন। এছাড়াও ওই এলাকার কয়েকটি দোকানে ভাঙচুরের পাশাপাশি বাইক, সাইকেল, ভ্যান রিক্সা নলকূপ দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে ফেলার পাশাপাশি পুকুরের জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় কয়েকজন মহিলাও আক্রান্ত বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। গাজন সন্ন্যাসীরা তাদের উপর আক্রমণের অভিযোগ তুলে তারা মুটুকগঞ্জ এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ পথ অবরোধ করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে গাজন সন্ন্যাসীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। পরে অবরোধ উঠে যায়। ঠিক তার পরেই ওই গাজন সন্ন্যাসীদের একাংশ তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের থানা গোড়া সংলগ্ন বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় প্রবীণ এই রাজনৈতিক নেতা প্রাণে রক্ষা পেলেও বাড়ির একাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নূপুর দাস বাউরী বলেন, বোনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে গাজন দেখতে বেরিয়েছিলাম। পরে মোড়ের কাছে এসে দেখি দু’পক্ষের হাতাহাতি চলছে। কোন রকমে ঘুর পথে বাড়ি ফেরার চেষ্টা করি। ওই সময় উপস্থিত কয়েক জন মহিলার হাত ধরে টানাটানি করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

গাজন কমিটির সম্পাদক উদয় কুমার দে দু’পক্ষের মারামারির ঘটনা স্বীকার করেন৷ বলেন, প্রতি বছরই নিয়ম করে এই ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আর আমাদের ছেলেরাই মার খেয়ে বাড়ি ফিরে আসে। এবার তারা সতর্ক থাকায় এই ঘটনা আরও জোরালো হয়েছে বলে তিনি জানান।

অন্যদিকে তাঁর বাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় বিজেপি-আরএসএস কর্মীরা যুক্ত দাবি করেন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বলেন, ইট পাটকেল ছুড়ে বাড়ির কাঁচ পর্যন্ত তারা ভেঙ্গে ফেলেছে। এই অবস্থায় তিনি একাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে তাদের তাড়া করলে দুষ্কৃতী দলটি পালিয়ে যায়। আমার বাড়ি আক্রান্ত হবে আর আমি খিল লাগিয়ে বসে থাকতে পারিনা। বাধ্য হয়েই বেরিয়ে এসেছি। মার খাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও তিনি মার খাননি জানিয়ে বলেন, বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

প্রাক্তন মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্বপন ঘোষ বলেন, আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিশ্বাস করি। দেশের ১৮ টি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় থেকে বুঝিয়ে দিয়েছে গণতন্ত্রে বিশ্বাস রেখে কারো উপর তারা কারোর বিরোধিতা করে না।

গাজনকে কেন্দ্র করে সমস্যা হয়েছিল তিনি শুনেছেন দাবি করে বলেন, এক্ষেত্রে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। যেকোনো ধরণের ঘটনা ঘটলে সব রাজনৈতিক দল আরএসএস-বিজেপির দিকে আঙ্গুল তোলা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে অভিযোগ করেন৷ তিনি আরও বলেন, আমরা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মসূচীতে আক্রমণ বিশ্বাস করি না। তৃণমূল এক সময় তার বাড়ি ভাঙচুর করেছে দাবি করে বিজেপি সভাপতি স্বপন ঘোষ৷ এই ঘটনায় তাদের দলের কেউ যুক্ত নন বলেই স্পষ্টতই দাবি করেন তিনি।

এই ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা রয়েছে। শহর জুড়ে পুলিশি টহলদারি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পুলিশ দু’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।