তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া): লোকসভা ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরেই রাজনৈতিক সন্ত্রাসে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য। বাংলার একাধিক জায়গা থেকে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষের ঘটনার খবর আসছে। আজ শনিবার সকালে বিজেপি এবং তৃণমূল সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লক এলাকা।

পাঁচমুড়ায় তৃণমূল সমর্থিত শ্রমিক সংগঠন আই.এন.টি.ইউ.সি-র কার্যালয় ভাঙ্গচুরের পাশাপাশি তালডাংরা পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি ও বর্তমানে জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ চন্দনা অধিকারীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙ্গচুরের অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ওই স্থানীয় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য পার্থ সারথী মাকুড়কেও বিজেপি কর্মীরা মারধোর করেছে বলে অভিযোগ। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

তৃণমূল নেত্রী ও বাঁকুড়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ চন্দনা অধিকারীর অভিযোগ, শুক্রবার গভীর রাতে তার কুলবনী গ্রামের বাড়িতে বেশ কিছু বিজেপি আশ্রিত সশস্ত্র দুষ্কৃতি হামলা চালায়। বাড়িতে থাকা টিভি, ফ্রীজ, আলমারি, চেয়ার, টেবিল সহ অন্যান্য জিনিসপত্র ভেঙে ফেলার পাশাপাশি তার মেয়ের গলার চেন ছিনিয়ে নেয় বলে তার অভিযোগ। একই সঙ্গে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের জলের কল ভেঙ্গে ফেলার পাশাপাশি ঐ গ্রামের বেশ কিছু তৃণমূল সমর্থকের বাড়িতে ওই দুষ্কৃতি দলটি অবাধে তাণ্ডব চালিয়েছে বলে তার অভিযোগ।

একই সঙ্গে তাকে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে দাবী করে তিনি আরও  বলেন, ওই হামলার সময় কোনরকমে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচেছি। বাড়িতে থাকলে হয়তো ওই সময় তাকে খুন করে ফেলা হত বলে তিনি দাবী করেন।

তালডাংরা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও তৃণমূল নেতা পার্থ সারথী মাকুড়ের অভিযোগ, রাতে তালডাংরা পার্টি অফিস থেকে বাইকে বাড়ি ফেরার পথে তিলাঘাগরি ঠাকুর থানের কাছে তাকে ঘিরে ধরে বিজেপি কর্মীরা মারধোর করে। এমনকি তৃণমূল ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের চেষ্টায় পুলিশের সাহায্য নিয়ে তিনি তালডাংরা ব্লক হাসপাতালে এসে চিকিৎসা করান বলে তিনি দাবী করেন।

তৃণমূল নেতা মনসা রাম রায়েক এই ঘটনার পিছনে বিজেপি যুক্ত দাবী করে বলেন, সিপিএমের হার্মাদরাই এখন বিজেপিতে নাম লিখিয়েছে। পাঁচমুড়া সহ ধোবাজোড়, বাঁশকোপা গ্রামেও তৃণমূল কর্মীদের উপর লাগাতার আক্রমণের অভিযোগ তুলে তিনি আরো বলেন, সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তারা এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরী করতে চাইছে। এবিষয়ে তারা থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বলে জানান ।

যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের স্থানীয় সাধারণ সম্পাদক সৌগত পাত্র বলেন, বিজেপির কোন দুষ্কৃতি হয়না। ভোটের ফল দেখে তৃণমূল বিভ্রান্ত। সেই কারণেই নিজেদের গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরেই এই সব ঘটনা ঘটছে বলে তার দাবী। এই ঘটনার পর তালডাংরা-পাঁচমুড়া এলাকা জুড়ে কার্যত অঘোষিত বন্ধের চেহারা নিয়েছে। খুব জরুরী প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাইরে বেরোচ্ছেননা। চাপা উত্তেজনা রয়েছে। বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় টহল দিচ্ছে।