বারাকপুর: প্রজাতন্ত্র দিবসের সকালে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে খড়দহ থানার অন্তর্গত পানিহাটি পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়ার মোড় এলাকায়।

রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন জখম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জখমদের নিয়ে যাওয়া হয় পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

পানিহাটি উত্তর মণ্ডলের ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি সুজিত বড়ুয়া বলেন, “আমরা এই পূর্বপল্লী এলাকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি, তারপর তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এসে আমাদের হুমকি দেয় কেন পতাকা উত্তোলন করেছি? এই নিয়ে ওরা আমাদের ধাক্কাধাক্কি করে, এরপর আমরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যাই। পরে শুনলাম ওরা আমাদের দলের সমস্ত কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে হামলা করেছে। এমনকি এক দলীয় কর্মীর রেস্টুরেন্টে ঢুকে সেই রেস্টুরেন্ট ভাঙচুর করেছে এবং রেস্টুরেন্টের মালিককে প্রচণ্ড মারধর করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে নাকি সবথেকে ভাল গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় আছে। কিন্তু কোথায় গনতন্ত্র আছে, সেটাই আমরা জানতে চাই ।”

অন্যদিকে পানিহাটি শহর তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সম্রাট চক্রবর্তী বলেন, “আমরা দলনেত্রীর নির্দেশে শহরের সমস্ত দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করি। তবে এই কেয়ার মোড় এলাকায় হঠাতই স্বশস্ত্র বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা আমাদের দলের কর্মীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আক্রমণ করে। এই ঘটনায় আমাদের দলের সাত থেকে আটজন কর্মী মারাত্মক জখম হন। তাদের মধ্যে সুব্রত দাস গুরুতর আহত হন। এছাড়াও অন্যান্য কর্মীরাও জখম হয়েছে, তবে আমরা সাধারন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এই দুষ্কৃতীরাজ বন্ধ করব । ওরা শান্ত পানিহাটি কে অশান্ত করার চেষ্টা করছে, তা আমরা কিছুতেই হতে দেব না।”

খড়দহ থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকেই গ্রেফতার করেনি। উত্তেজনা নিয়ন্ত্রনে আনতে এলাকায় পুলিশি টহল চলছে।